পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন সাবেক এমপি দবিরুল ইসলাম

জাহাঙ্গীর আলম, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: উত্তরবঙ্গের বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ ঠাকুরগাঁও-২ আসনের টানা সাতবারের সাবেক সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি দবিরুল ইসলামের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
শনিবার (৩০ মে) বিকাল সাড়ে তিনটায় বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার শহীদ আকবর আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজ মাঠে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানাজা শেষে বড়বাড়ী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

প্রবীণ এই রাজনীতিকের শেষ বিদায়ে অংশ নিতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মানুষ বালিয়াডাঙ্গীতে সমবেত হন।
জানাজার আগে বর্ষিয়ান এই রাজনীতিবিদকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়। এ সময় প্রশাসন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

বাবার জানাজায় অংশ নিতে দিনাজপুর কারাগার থেকে সাত ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে উপস্থিত হন তার ছেলে ও ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম সুজন।
বাবার মরদেহের পাশে তার কান্নার দৃশ্য জানাজাস্থলে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে। তিনি উপস্থিত সবার কাছে বাবার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া চান।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দবিরুল ইসলাম ঠাকুরগাঁও-২ আসন (বালিয়াডাঙ্গি, হরিপুর উপজেলা ও রানীশংকৈল উপজেলার একাংশ) থেকে মোট সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৮৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) থেকে ১৫-দলীয় জোটের প্রার্থী হয়ে তিনি প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনেও তিনি সিপিবির প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন।
এরপর ১৯৯৬ সালে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগ দেন এবং একই বছর নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য হন।
পরবর্তীতে ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়) এবং সর্বশেষ ২০১৮ সালের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে পরাজিত করে টানা সপ্তমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দবিরুল ইসলামের পরিবর্তে তাঁর ছেলে মাজহারুল ইসলাম সুজনকে মনোনয়ন দেয় এবং সেই নির্বাচনে মাজহারুল ইসলাম জয়ী হন।
উল্লেখ্য যে, গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর চাঁদা দাবি, জমি দখল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে দবিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা হয়।
গত বছরের ২ অক্টোবর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি তিনি দিনাজপুর জেলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হন।
এর কিছুদিন পর অসুস্থতা বেড়ে গেলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং দীর্ঘ দিন চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় সেখানেই ২৮ মে (বৃহস্পতিবার) বিকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।












