জগন্নাথ হল ট্র্যাজেডির ৩৬ বছর আজ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শোক দিবস আজ। ১৯৮৫ সালের ১৫ অক্টোবর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের তৎকালীন অনুদ্বৈপায়ন ভবনের টেলিভিশন কক্ষের ছাদ ধসে ৪০ জন মারা যান। নিহতদের মধ্যে ২৬ জন ছিলেন ছাত্র, ১৩ জন ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ও অতিথি। আহত হন শতাধিক। আহতদের অনেকেই পঙ্গু হয়ে যান চিরতরে। আজ সেই ট্র্যাজেডির ৩৬ বছর পূর্ণ হচ্ছে।

দিবসটি উপলক্ষে নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে প্রতিবছর বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।

এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হল ও প্রধান প্রধান ভবনে কালো পতাকা উত্তোলন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা অর্ধনমিত রাখা ও কালো ব্যাজ ধারণ, শোক মিছিল, পুষ্পস্তবক অর্পণ।

জানা যায়, জগন্নাথ হল এলাকায় যেখানে ‘অক্টোবর স্মৃতিভবন’ দাঁড়িয়ে আছে, সেখানে ১৯৪৭ সালে পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদের অধিবেশন বসতো। একে ‘পরিষদ ভবন’ বা অ্যাসেম্বলি হল বলা হতো।

এ ভবনটি ১৯৬৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভবনটিকে ছাত্রদের আবাসিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে জগন্নাথ হলের সঙ্গে যুক্ত করে।

একাত্তরের শহীদ আবাসিক শিক্ষক অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্যের নামে এ পরিষদ ভবন বা অ্যাসেম্বলি হলের নামকরণ করা হয় ‘অনুদ্বৈপায়ন ভবন’। প্রায় ১৫০ বছরের পুরনো এই ভবনটিকে আগেই বসবাসের অযোগ্য বলে ঘোষণা করা হয়েছিল।

ব্রিটিশ শাসনামলে চুন, সুরকি, লোহার রডের বিম দিয়ে তৈরি এ ভবন ছিল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তারপরও কর্তৃপক্ষ ছাত্রদের বিনোদন ব্যবস্থা হিসেবে এখানেই একটি বড় রঙিন টেলিভিশন স্থাপন করে।

১৫ অক্টোবর দিনটি ছিল দুর্যোগপূর্ণ। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে মুষলধারে বৃষ্টি হয় এবং রাজধানী ঢাকার ওপর দিয়ে প্রায় ১০০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়াসহ ঝড় বয়ে যায়।

সারাদিন ধরেই ছিল টিপটিপ বৃষ্টি। আর এ জন্যই পলেস্তারা নরম হয়ে ধসে পড়ে ছাদটি। এরপরই মর্মান্তিক দৃশ্যের সম্মুখীন হয় বিশ্ববাসী। প্রাণ হারায় ৩৯ জন ছাত্র, কর্মচারী ও অতিথি।

এদিন রাত সাড়ে ৮টা থেকে মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে রচিত ধারাবাহিক নাটক ‘শুকতারা’ প্রচার হচ্ছিল।

নাটকে অভিনয় করেছিলেন জগন্নাথ হলের ছাত্র শুভ্র দেব। ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে নাটকটি দেখার জন্য সমবেত হয় বহু ছাত্র। রাত প্রায় পৌনে ৯টার দিকে ছাত্রদের ওপর ভেঙে পড়ে ভবনের ছাদটি। গভীর রাত ধরে চলে উদ্ধার কাজ। তবু রক্ষা করা যায়নি ৩৯টি তাজা প্রাণ।

বৈশাখী নিউজ/ ইডি