কলকাতার সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত, হাজির ছিলেন মমতা

বিত্র রমজান মাসের ৩০ রোজা শেষে ঈদুল ফিতর উদযাপন করছে ভারত। গত দুই বছর ছিল লকডাউন। তাই ঘরে বসেই জৌলুসহীন ঈদ পালন করেছিলেন গোটা ভারতবাসী। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। সংক্রমণ কাটিয়ে ধর্মীয় প্রার্থনার পর খুশির আলিঙ্গনে পরস্পরের সঙ্গে আবদ্ধ হলেন হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসলিম৷ রমজান মাস শেষে ঈদের নামাজ পড়তে মঙ্গলবার দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জমায়েত হন লাখ লাখ মানুষ৷ তবে মঙ্গলবার সকাল থেকেই খারাপ আবহাওয়ার কারণে পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, আসাম, মেঘালয়ের বেশ কিছু এলাকায় ঈদের নামাজ পড়তে সমস্যার সম্মুখীন হন মুসল্লিরা।

জনজীবন আবার ফিরেছে স্বাভাবিক ছন্দে। তাই কলকাতার সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত ফিরেছে রেড রোডে। বৃষ্টি মাথায় নিয়েই সকাল সাড়ে ৮টার সময় নামাজ পড়া শুরু হয়। নামাজ পড়ান ইমাম কোয়ারি ফজলুর রহমান। প্রায় ২ থেকে ৩ লাখ মানুষ বৃষ্টিতে ভিজেই অংশ নেয় রেড রোডের নামাজে। রেড রোডে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি।

রেড রোডের পাশাপাশি কলকাতার পার্ক সার্কাসের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ নামাজেও ধরা পড়েছে ব্যাপক জনসমাগমের ছবি। বৃষ্টি বিঘ্নিত সকালে স্থানীয় চেতলা মসজিদেই ঈদের নামাজ পড়েন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। কলকাতার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলোতেও নামাজ আদায় শেষে আনন্দ উদ্দীপনার সঙ্গে উদযাপিত হচ্ছে ঈদের আয়োজন।

ভারতের অন্যতম বৃহৎ দুই মসজিদ- রাজধানী দিল্লির জামে মসজিদ ও লখনৌর রুমি দারওয়াজায় নামাজে অংশ নিয়েছে লাখো মানুষ। নিরাপত্তায় মোতায়েন ছিল বিপুল সংখ্যক পুলিশ। ঐতিহ্যবাহী ঈদের জামাতে ভারতের সব রাজ্যের মসজিদগুলোতে মানা হয়েছে কড়া স্বাস্থ্যবিধি। আহমেদাবাদ জামে মসজিদ, থিরুভানানথাপুরমের পালায়াম জামে মসজিদ, পাঞ্জাবের অমৃতসরে খায়রুদ্দিন মসজিদ, মুম্বাইয়ের মহিম দরগাতেও ছিল ব্যাপক জনসমাগম।

মুসলিমদের এ ধর্মীয় উৎসবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী আর দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এদিকে ঈদ উপলক্ষে সীমান্তে মিষ্টি বিনিময় করেছে ভারত এবং বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী।

রেড রোডে নামাজে অংশ নিয়ে দেশে বিভাজনের রাজনীতি চলছে বলে অভিযোগ করেন মমতা। নাম না নিয়ে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করে মমতা বলেন, বাংলার ঐক্য দেখে অনেকের হিংসা হয়। মানুষের অধিকারের জন্য লড়াই করব। মাথা নোয়াব না। ভয় পাবেন না, লড়াই করুন।

বৈশাখী নিউজ/ জেপা