জনির বিরুদ্ধে অ্যাম্বারের যত অভিযোগ

চার বছর চুটিয়ে প্রেম, এরপর দুজন সারা জীবন একসঙ্গে থাকার স্বপ্ন নিয়ে বিয়েও করেছিলেন। কিন্তু মানুষ স্বপ্ন যেমন দেখে, তেমনি সেটা ভেঙে যেতেও সময় লাগে না। তেমনই এক কালবৈশাখি ঝড়ে সব লন্ডভন্ড হতে চলেছে হলিউডের জনপ্রিয় দুই তারকা জনি ডেপ ও অ্যাম্বার হার্ডের জীবন। ২০১৫ সালের মাঝামাঝি বিয়ের তিন মাসের মধ্যেই তাদের সংসারে শুরু হয় অশান্তি। ভার্জিনিয়ার আদালতে দুজনের মামলা চলছে প্রায় ছয় সপ্তাহ ধরে। মামলায় একজন আরেকজনকে দুষেছেন। ছয় সপ্তাহে ধরে দুপক্ষ থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। তবে জনি ডেপের বিরুদ্ধে সাবেক স্ত্রীর অভিযোগের শেষ নেই।

ডেপের বিরুদ্ধে অ্যাম্বারের প্রধানতম অভিযোগ ছিল শারীরিক নির্যাতনের। নানাভাবে নানা সময়ে অ্যাম্বারকে মানসিক ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করেছেন ডেপ। জেনে নেয়া যাক, ডেপের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ জানিয়েছেন অ্যাম্বার।

জনি ডেপের সঙ্গে প্রথম দেখা ছিল অস্বাভাবিক। ডেপের প্রযোজিত এক ছবিতে অডিশন দিতে প্রথম দেখা করেন হার্ড। কিন্তু অডিশনের পরিবর্তে দীর্ঘক্ষণ তাকে বসিয়ে রাখা হয়। তখন হার্ডের মাত্র ২২ বছর বয়স ছিল। বিষয়গুলো সহজে বুঝতে পারছিলেন না তিনি। তখন জনি ডেপ বিশ্বের সেরা অভিনেতা। এটা জানতেন হার্ড। তার অফিসে ডাকায় হার্ডের আগ্রহ ছিল। কিন্তু প্রথম দিনেই জনি ডেপের আচরণে অপমানিত হন হার্ড।

১. তবে অ্যাম্বারের প্রথম অভিযোগ ছিল, হার্ডের বাহুতে ডেপের আঘাত করা। একটি ফটো দেখানো হয় আদালতে। সংসারে থাকার সময় জনি ডেপ ঝগড়ার সময় হার্ডকে এ আঘাত করেন। এ ছাড়া ডেপ তাকে চড় মেরেছিলেন। পুনরায় আঘাতের ভয়ে তাকে বলেননি হার্ড। কতবার আঘাত করা হয়েছে সেটা মনে নেই। তবে ডেপের আঘাতের কারণে মেঝেতে পড়ে থাকার কথা মনে আছে হার্ডের। এরকমই একটা অডিও ভাইরাল হয়েছে। যেখানে ডেপ অ্যাম্বারকে মারার জন্য ফোনে ক্ষমা চেয়েছিলেন, আর সে সময় অ্যাম্বারের বয়স ছিল খুবই কম। যদিও এর পরে একাধিকবার অ্যাম্বারের শরীরে হাত তুলেছেন ডেপ।

২. এরপর, হানিমুনে নিয়েও অ্যাম্বারকে মেরেছেন ডেপ। সেটার বর্ণনাও দিয়েছেন এই অভিনেত্রী। ডেপ ছিলেন হার্ডের জীবনের ভালোবাসা। তবে হার্ডের জীবনে ‍‍‘ভয়াবহ‍‍’ বিষয়ও ছিলেন ডেপ। ২০১৫ সালে হানিমুনে গিয়ে মৃত্যুভয় তাড়া করেছিল তাকে। জনি অ্যাম্বারকে ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেসের মধ্যেই গলাটিপে ধরেছিলেন। ঘাড় ধরে ফেলে দিতে গিয়েছিলেন চলন্ত ট্রেন থেকে। অ্যাম্বারের দাবি, তখন থেকেই অত্যাচারের শুরু। তারপর প্রায় প্রতিদিনই পারিবারিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন তিনি। হানিমুনেই তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন জনি ডেপ।

৩. বিয়ের পর একাধিকবার নির্যাতনের শিকার হন অ্যাম্বার। নানাভাবে আদালতে তার বর্ণনাও দিয়েছেন অভিনেত্রী। ডেপ মদ্যপান ছাড়ার জন্য অভিনেত্রীকে জোরাজুরি করেছিলেন এবং তিনি তার কাছ থেকে একটি বোতল কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করার মতো সাহস দেখিয়েছিলেন। ‘টানাটানির সময় বোতলটি ঠিক আমাদের মাঝখানের মাটিতে পড়ে যায়। আর এতেই খেপে যায় জনি। এরপর সে আমার দিকে আরেকটি বোতল ছুড়ে মারে। তবে সেটি আমাকে আঘাত করতে পারেনি। এরপরও জনি একের পর এক সোডা ও বিয়ারের ক্যান ছুড়ে মারতে থাকে।’ এ ছাড়া জনি ডেপ শারীরিকভাবে বিভিন্ন অসদাচরণ করতেন, তার ব্যবহার থাকত উন্মাদের মতো।

৪. জনি ডেপের মাদক কোকেন লুকিয়েছিলেন সাবেক স্ত্রী। এ ঘটনার বিবরণ দিতে শুরু করে আদালতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন অ্যাম্বার। শেষমেশ তার তরফের সাক্ষী ফরেনসিক সাইকোলজিস্ট ডন হিউগস খুলে বলেন পুরো ঘটনা। তিনিই জানান, মত্ত অবস্থায় পাগলের মতো কোকেন খুঁজছিলেন জনি। তখনই অ্যাম্বারের ওপর চড়াও হন। একটানে অ্যাম্বারের গাউন ছিঁড়ে সরাসরি গোপনাঙ্গে মাদক খুঁজতেও দ্বিধাবোধ করেননি হলিউডের জনপ্রিয় এ অভিনেতা! জনির ধারণা হয়েছিল, ওখানেই কোকেন লুকিয়ে রেখেছেন অ্যাম্বার! যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন অভিনেত্রী। তবু জনির কোনো অনুশোচনা ছিল না বলেই দাবি তার সাবেক স্ত্রীর।

৫. এ ছাড়াও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন জনি, এমনটাই সাক্ষ্য দিয়েছেন অ্যাম্বারের বোন। সে কারণে বিয়ের এক মাসের মাথায়ই নিজেদের মধ্যে সমস্যা সৃষ্টি হয়।

যদিও অ্যাম্বারের এসব অভিযোগকে মিথ্যে বলে দাবি করেছেন জনি ডেপ। তার ভাষ্যমতে, তিনি কখনো কোনো নারীর শরীরে হাত তোলেননি। তার ব্যবহার যেমনই হোক, মারার মতো আচরণ করেননি। বরং জনি উলটো আঙুল তুলেছেন হার্ডের দিকে। তিনি দাবি করেন, অ্যাম্বার তাকে মানসিকভাবে খুবই জ্বালাতন করতেন। এমনকি তার সঙ্গে উচ্চ ভাষা ও হাতাহাতিও করেছেন। এ ছাড়া বিয়ে থাকা অবস্থায়ই ইলন মাস্কের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছেন। সেই ভিডিও সবার সামনে প্রকাশ করেছেন জনি।

২০১১ সালে ‘দ্য রাম ডায়েরি’ সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করেন জনি ডেপ-অ্যাম্বার হার্ড। পর্দায় প্রেম করতে করতে রিয়েল লাইফেও প্রেমে পড়েন নায়ক-নায়িকা। ২০১৫ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হোন। বিয়ের তিন বছরের মধ্যেই ২০১৭ সালে বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে বিখ্যাত এই তারকা দম্পতির। বিচ্ছেদের এক বছর পর অর্থাৎ ২০১৮ সালে ওয়াশিংটন পোস্টে একটা লেখা লিখেছিলেন হার্ড। সেই লেখায় ২৩ বছর পর সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন হার্ড।

সূত্র: নিউজউইক

বৈশাখী নিউজ/ ইডি