সেরা একাদশ নির্বাচনে তামিম ইকবালের সাহসী সিদ্ধান্ত

ক্রিকেট খেলায় অধিনায়কের গুরুত্ব অপরিসীম। এখানে অধিনায়ককে হতে হয় বিচক্ষণ, দূরদর্শী সম্পন্ন। অধিনায়কের কাজ শুরু হয়ে যায় খেলা শুরুর আগেই। প্রথমেই উইকেট পড়তে হয়, বুঝতে হয়ে। সেই অনুযয়ী সেরা একাদশ সাজাতে হয়। এখানে ভুল করলে তার মাশুল দিতে হয় ম্যাচে। একাদশে ব্যাটসম্যান কয়জন খেলবে, বোলিং বিভাগ কী রকম হবে? পেসারের সংখ্যাধিক্য বেশি হবে, না স্পিনারের, সে ব্যাপারে নিতে হয় সঠিক সিদ্ধান্ত।

অনেক সময় দেখা যায় উইকেটের কারণে ব্যাটসম্যান বেশি খেলাতে গিয়ে ফর্মে থাকা সেরা বোলারের জায়গা হয় না একাদশে।এই তো ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে নিয়মিত উইকেট পাওয়া বোলার নাসুম আহমেদকে বাদ দিয়ে একজন পেসার বেশি খেলানো হয়ে। আবার পরের ম্যাচে নাসুমকে সেরা একাদশে ফিরিয়ে আনা হয়ে। নাসুম নেন দুই উইকেট।এটাই নেতৃত্ব। এভাবেই নিতে হয় সিদ্ধান্ত। এখানে নেতা কখনো সফল হবেন, কখনো না। কিন্তু সিদ্ধান্ত হতে হবে সঠিক।

দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার চেয়ে অনেক বেশি সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম একদিনের ম্যাচে। যে সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে তামিম ইকবালের দূরদর্শিতা সাহস আর বিচক্ষণতা।

বাংলাদেশ এখন খেলতেই নামে আট ব্যাটসম্যান নিয়ে। সাকিব না খেললে সেই সংখ্যা নেমে আসে সাতে। তারপরও ব্যাটিং ব্যর্থতার দুর্দশা কাটছে না। এবারের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে এই সমস্যা ছিল প্রকট। টেস্টের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজেও হেরেছে ২-০ ব্যবধানে।

সেখানে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশ ছয় ব্যাটসম্যান নিয়ে খেলতে নেমেছিল। এবারের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনায় এটি ছিল অসীম সাহসিকতার পরিচয়। এর পরের সিদ্ধান্ত ছিল এনামুল হোক বিজয়কে সেরা একাদশে না খেলানোর।

এনামুল আবার জাতীয় দলে ফিরেছেনই লিস্ট “এ” ক্রিকেট বিশ্বের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে হাজার রান করার বিশ্ব রেকর্ড গড়ে। তার সেরা একাদশে খেলা ছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র। কারণ না চাইতেই তিনি সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট ও তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের সব কটিই খেলেছেন। তাই ওয়ানডে ম্যাচ না খেলার কোনো কারণই নেই।

দলে নেই আবার তিন থেকে পাঁচ পর্যন্ত খেলা তিন ব্যাটসম্যান সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম ও ইয়াসির আলী চৌধুরী রাব্বি। কিন্তু তারপরও তার জায়গা হয়নি সেরা একাদশে। কোনো ইনজুরিও ছিল না। এতে করে অনেকেই চমকিত হয়েছিলেন। সুদূর ওয়েস্ট ইন্ডিজে খেলা হওয়াতে তাৎক্ষণিক কোনো কারণও জানা সম্ভব হয়নি।

অপেক্ষা করতে হয় ম্যাচ শেষে অধিনায়ক তামিম ইকবাল কী ব্যাখ্যা দেন? খেলায় সফরে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো জয়ের স্বাদ পায় ছয় উইকেটে ম্যাচ জিতে। পরে ম্যাচ শেষে অধিনায়ক তামিম ইকবাল দেন তার ব্যাখ্যা। যেখানে ছিল সাহসিকতার স্পষ্ট নিদর্শন। দলে থাকলেই খেলাতে হবে এর পক্ষে ছিলেন না তামিম ইকবাল। তার সমর্থন ছিল নাজমুল হোসেন শান্তর দিকে।

তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি এ কারণে যে দেখুন, এনামুল বিজয় অবশ্যই দরুণ একটি ঘরোয়া মৌসুম কাটিয়েছে। মাত্র দলে এসেছে। আজকে যদি শান্তর জায়গায় বিজয়কে নিতাম, তাহলে শান্ত যে গত তিন সিরিজ ধরে ছিল, ওই নির্বাচনটা ছিল ভুল। শান্তকে কেন তিন সিরিজ ধরে নিয়ে আসছি? যখনই সুযোগ আসবে, শন্তই এগিয়ে থাকার কথা বিজয়ের চেয়ে।’

আজ দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচ। জিতলেই সিরিজ বাংলাদেশের। অধিনায়ক তামিম ইকবালের সাহসী সিদ্ধান্ত আর নেতৃত্বের আরেকটি প্রদর্শনী হতে পারে গায়ানার প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে।

বৈশাখী নিউজ/ জেপা