“চিত্ত যেথা ভয়শূন্য উচ্চ যেথা শির”

২০০১ সাল: দুঃসময়ের দু’টি কথা

“চিত্ত যেথা ভয়শূন্য উচ্চ যেথা শির”

ভয়শূন্য উচ্চ শির বীরদের স্মরণ করি যারা নিজেদের উৎসর্গ করে আমাদের শির করেছে উন্নত। সেই সহযোদ্ধাদের আমরা হারিয়েছি চলার পথে যারা আমাদেরই পাশে ছিল এক বিভীষিকাময় সময়ে।
২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনোত্তর বিএনপি জামাত সরকারের সরাসরি মদদে বিএনপি-জামায়াত জোটের ক্যাডার কর্তৃক আওয়ামী লীগের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীর উপর নেমে এসেছিল লুট, অগ্নিসংযোগ ও ধর্ষণের ঘটনাসহ অকথ্য নির্যাতন, হামলা-মামলা ও সহিংসতা। যাঁদের উপর আক্রমণ করা হয়েছিল, তাঁরা থানায় অভিযোগ দায়ের পর্যন্ত করতে পারেননি। আবার কেউ কেউ আদালতে অভিযোগ করতে পারলেও রাজনৈতিক কারণে তদন্ত করা হয়নি। এই সহিংসতাকে ‘মানবিক দুর্যোগ’ উল্লেখ করে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন ‘রুদ্ধ কালের ঘটনাপুঞ্জি’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী ২০০২ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাওয়া অভিযোগের সংখ্যা ৩,৬২৫। এর মধ্যে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ৩৫৫টি এবং লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, ধর্ষণ, গণধর্ষণ, পঙ্গুত্ব, গুরুতর আঘাত, সম্পত্তি দখল ও অন্যান্য গুরুতর অভিযোগ তিন হাজার ২৭০টি। অভিযোগ বাতিল করা হয়েছে এক হাজার ৯৪৬টি। উপরোক্ত ৩.৬২৫টি সহিংস ঘটনায় বিএনপি-জামায়াত জোটের ১৮ হাজারেরও বেশি ক্যাডার জড়িত।
এমনি এক বিভিষিকাময় পরিস্থিতির মাঝে নির্বচনোত্তর ২০০২ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে আমি শিক্ষানবিশ আইনজীবী হিসাবে সুপ্রিমকোর্টে কর্মজীবন শুরু করি। তখন আমার প্রাণপ্রিয় সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বাইরে, বিরোধী দলের ভূমিকায়। আইনপেশায় আমার সিনিয়র ছিলেন আওয়ামী লীগের অন্যতম কেন্দ্রীয় নেতা শ্রদ্ধাভাজন বিজ্ঞ সিনিয়র আইনজীবী নুরুল ইসলাম সুজন এম পি। তিনি সর্বজন পরিচিত ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হওয়ায় আওয়ামী লীগের শীর্ষ স্থানীয় নেত্রীবৃন্দসহ সারা দেশের সাধারণ নেতাকর্মীর সিংহভাগ মামলা ছিলো এই চেম্বারে, ফলে সকল রাজনৈতিক মামলায় সক্রিয়ভাবে কাজ করার সুযোগ আমার হয়েছিল। ইতিমধ্যে আমি আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সর্বকনিষ্ঠ সদস্য মনোনীত হই। ফলে আমাদের নেতৃবৃন্দের রাজনৈতিক মামলার আইনি সহায়তা প্রদান ও আদালত প্রাঙ্গণে বিভিন্ন কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ ছিলো নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। পাশাপাশি প্রায় সকল রাজনৈতিক আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় থাকাটা ছিল অতি স্বাভাবিক ঘটনা
যে দুরবিসহ ঘটনাগুলি বিবেককে দংশন করে, চেতনাকে তাড়িত করে, সেই দুঃস্বপ্নের অন্যতম অধ্যায় আমাদের পূর্ণিমা রানীর ঘটনা। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থানার দেলুয়া গ্রামের অনিল কুমার শীলের পরিবারের ওপর ২০০১ সালের নির্বাচন পরবর্তী অক্টোবর মাসের ৮ তারিখ রাতে চালানো হয় বর্বরতম অত্যাচার-নির্যাতন-নিপীড়ন। পনেরো বছর বয়সের দশম শ্রেণীর ছাত্রী পূর্ণিমা গণধর্ষণের শিকার হয়ে অনেকটা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল। ঘটনার ৩/৪ দিন পর ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ধর্ষিত ছাত্রী ও তার পরিবারকে সাংবাদিদের সামনে হাজির করলে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। বর্ণনামতে পূর্ণিমা ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন নিজ গ্রাম দেলুয়া ভোটকেন্দ্রে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আব্দুল লতিফ মির্জার নির্বাচনী এজেন্ট ছিল। তার মা বাসনা অন্য ভোটকেন্দ্র মহিলা আনসারের দায়িত্ব পালন করছিলেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার কারণে ২৫-৩০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল রাতের অাঁধারে অনিল শীলের বাড়িতে হানা দেয়। তারা অনিলের ছোট মেয়ে পূর্ণিমা রাণী শীলকে অপহরণ করতে গেলে তার স্ত্রী বাধা দিতে আসে। কিন্তু সন্ত্রাসীদের হামলায় পূর্ণিমার মা অজ্ঞান হয়ে পড়ে। বাড়ির সবাইকে মারধর করে তারা পুর্নিমাকে তুলে নিয়ে বিএনপি-জামায়াত জোটের সন্ত্রাসীদের পাশবিক নির্যাতন করে।
নির্লজ্জতার সকল সীমাকে ছাড়িয়ে যায় যখন পূর্ণিমা ধর্ষণ মামলার সম্পূরক অভিযোগপত্রে সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল লতিফ মির্জা, পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুর রহমান, উল্লাপাড়া আওয়ামী লীগ সভাপতি মীর শহীদুল হক পুন্নু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফি, আওয়ামী লীগ নেতা মারুফ বিন হাবিব ও খোরশেদ আলমকে আসামী হিসাবে অন্তর্ভূত করা হয়। যারা বিপদগ্রস্ত নির্মম নির্যাতনের শিকার পূর্ণিমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তাদেরকেই এই মামলার আসামী করা হয়! সারা দেশবাসী হতবাক হয়ে যায়, আমরা রাজপথের পাশাপাশি আইনি লড়ায়ের প্রস্তুতি গ্রহণ করি। সে সময়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ স্থানীয় নেত্রীবৃন্দের মামলা পরিচালনাসহ গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিতেন দেশবরেণ্য আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আমিরুল ইসলাম। তিনি বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতনের চিত্র আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরতেন। তাই বিষয়টির আইনগত প্রতিকার নিয়ে আমি তাঁর সাথে আলোচনা করি এবং স্যার সব ধরণের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এছাড়াও ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, নুরুল ইসলাম সুজনসহ সুপ্রিম কোর্টের নেতৃবৃন্দ এবং সিরাজগঞ্জের আইনজীবী নেতৃবৃন্দ বিশেষ করে বর্তমান পিপি এডভোকেট আব্দুর রহমান ও জিপি জাহিদ হোসেনের সাথে আলোচনা হয়। অন্যদিকে বেশকিছু রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আবু ইউসুফ সূর্য, সিরাজুল ইসলাম খান, কে এম হোসেন আলী হাসান, ফিরোজ ভুঁইয়াসহ অনেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেন। মামলার সম্পূরক অভিযোগ পত্র গ্রহণের শুনানিতে অংশগ্রহণ করার জন্য ব্যারিস্টার এম আমিরুল ইসলাম সবাইকে সংগঠিত করে আমাদের সিরাজগঞ্জ যাবার ব্যবস্থা করেন। অত্র মামলাটি পরিচালনার জন্য নির্ধারিত তারিখের আগের রাতে উনার চেম্বারে আমরা আইনজীবীগণ বসে মামলার নথিপত্রসহ সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করি। ব্যারিস্টার এম আমিরুল ইসলাম স্যারের নেতৃত্বে তৎকালীন সুপ্রিমকোর্ট বারের সভাপতি ওজায়ের ফারুক, ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ, আব্দুল বাসেত মজুমদার, মাহবুবে আলম, নুরুল, এস এস হালদার, নুরুল ইসলাম সুজন, ড.বশির আহমেদ, সরোয়ার জাহান বাদশাহ, রবিউল আলম বুদুসহ দেশবরেণ্য প্রায় পঞ্চাশ জন আইনজীবী সিরাজগঞ্জ আদালতে শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু সিরাজগঞ্জ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক অজ্ঞাত কারণে ওই দিন কোন আদেশ না দিলেও পরে আমাদের আবেদন খারিজ করেছিলেন! ফলশ্রুতিতে আমরা আবার স্যারের মাধ্যমে কোয়াসমেন্টের জন্য মহামান্য হাইকোর্টের দ্বারস্থ হই।
এদিকে ২০০২ সালে সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামী সমর্থিত সাদা প্যানেলের সভাপতি বিজ্ঞ আইনজীবী মালিক আব্দুর রহিম সহ বেশ কয়েকটি পদে বিজয় লাভ করলে আইনজীবী নেতৃবৃন্দ মাননীয় নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’র সাথে সাক্ষতের ইচ্ছা পোষন করেন। আমি শ্রদ্ধেয় এডভোকেট সাহারা আপার মাধ্যমে মাননীয় নেত্রীর পিএস এন আই খান (পরবর্তীতে শিক্ষা সচিব) তার সহযোগিতায় ধানমন্ডির ১২ এ অস্থায়ী অফিসে আইনজীবী প্রতিনিধিবৃন্দ মাননীয় নেত্রীর সাথে সাক্ষতের অনুমতি পায়। তখন পূর্ণিমার পরিবার নেত্রীর সাথে দেখা করতে চাইলে সাহারা আপার মাধ্যমে একই দিনে ও স্থানে ব্যবস্থা করা হয়। আইনজীবী নেতৃবৃন্দের সাক্ষাতের পর সাহারা আপা পূর্ণিমাকে নিয়ে সাক্ষাত করলে মাননীয় নেত্রী তার ঢাকায় থাকা ও পড়াশোনার জন্য বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন থেকে প্রত্যেক মাসের আর্থিক অনুদানের আবেদন করতে বলেন। সঙ্গে সঙ্গে সাহারা আপা পাশের রুমে এসে একটি সাদা কাগজ আমাকে দিলে উনার নির্দেশনা অনুযায়ী আমি একটি আবেদনটি প্রস্তুত করি। উক্ত আবেদনটি মাননীয় নেত্রীর বরাবরে প্রদান করলে মানবতার জননী মাননীয় নেত্রী পত্রটিতে তখনি সাক্ষর করে তা মঞ্জুর করেন! ততপর পূর্ণিমাকে ঢাকার শ্যামলীতে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এ ভর্তি করা হয় এবং তার নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনা করে অত্র প্রতিষ্ঠানের আবাসিক হোস্টেলে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। মাঝেমধ্যে সাহারা আপার নির্দেশে গোপনীয়তা বজায় রেখে আমি সেই প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপালের অনুমতি নিয়ে দেখা করে খোঁজখবর নিতাম এবং তার পরিবারকে জানাতাম। ইত্যবসরে আমি উচ্চশিক্ষার্থে ব্যারিস্টারি পড়ার জন্য বিলেত গমন করি।
বিএনপি জামাত জোটের নির্মম নির্যাতন ও নিষ্ঠুরতার রক্তাক্ত দলিল অপারেশন ক্লিন হার্ট! এই অপারেশন ক্লিন হার্ট পরিচালনার সময় সেনাবাহিনী তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের হাজার হাজার নেতা কর্মীকে আটক করে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে নিয়ে যায়। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তাকে পাবনার চাঞ্চল্যকর বাচ্চু হত্যা মামলার আসামী করা হয় এবং রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ করা হয়। তিনি আমাকে মামলাটির আইনত প্রতিকারের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বললে সুপ্রিমকোর্টের সাবেক সভাপতি সিনিয়র আইনজীবী ওজায়ের ফারুক সাহেবকে আইনজীবী নিয়োগ করে হাইকোর্ট ডিভিশনে রীট মামলা দায়ের করি।মহামান্য হাইকোর্ট এত্র মামলাটির স্থগিতাদেশ প্রদান করেন।
এই অত্যাচারের ধারাবাহিকতায় সাবেক সাংসদ আব্দুল লতিফ মির্জা। এইসময় তাকে মিথ্যা বানোয়াট অস্ত্র দিয়ে সেনাবাহিনী আটক করে জেল হাজতে পাঠায়। সিরাজগঞ্জ আদালতে মামলাটি শুনানির একটি তারিখে আমি সিরাজগঞ্জ উপস্থিত হলে তিনি আমাকে বলেন, পূর্ণিমার মামলায় যেভাবে ঢাকা থেকে আইনজীবীদের প্রতিনিধিদের নিয়ে এসেছিলেন, সেরকম কিছু করা যায় কিনা। আমি এডভোকেট আব্দুর রহমান পিপি, জাহিদ হোসেন জিপি, বাবু বিমল চন্দ্র, মো: রজব আলী সাহেবসহ সিরাজগঞ্জের কয়েকজন সিনিয়র আইনজীবীদের সাথে আলোচনা করি। ঢাকায় এসে এডভোকেট সাহারা আপাকে জানাই এবং তিনি শুনে তৎক্ষনাৎ বললেন আমি নিজেই যাবো। উনার আন্তরিকতা ও উদারতা দেখে অভিভূত হলাম। মামলার পরবর্তী তারিখে শ্রদ্ধেয় সাহারা আপার নেতৃত্বে আব্দুল্লাহ আবুসহ ছোট একটি দল সেখানে যান এবং প্রয়াত জেষ্ঠ্য আইনজীবী শ্রদ্ধেয় আবুল কাশেম সাহেবকে সাথে নিয়ে অত্র মামলার শুনানি করেন।
পরবর্তীতে মামলাটি রাজশাহীতে হস্তান্তর হলে বাংলাদেশের বর্তমান বিজ্ঞ অ্যাটর্নি জেনারেল সিনিয়র আইনজীবী জনাব মাহবুবে আলম অত্র মামলাটির সকল প্রকার আইনি সহায়তা প্রদান করেন। রায় ঘোষণার দিন প্রিয়নেতার সাথে শতশত নেতা কর্মী রাজশাহীর আদালতে উপস্থিত হয়। আমি যাওয়ার আগের সন্ধ্যায় যুবলীগের তৎকালীন চেয়ারম্যান আমার শ্রদ্ধাভাজন নেতা নানক ভাইকে জানালে তিনি সাথে সাথে রাজশাহীর নেতৃবৃন্দকে অবহিত করেন। পরদিন প্রত্যুষে রাজশাহীতে পৌছানোর পর রাজশাহী ইউনিটের যুবলীগ নেত্রিবৃন্দের সাথে দেখা হয়। আমি আইনজীবী হিসাবে আদালত কক্ষে উপস্থিত ছিলাম এবং আমাদের সকলের মধ্যে ভীষণ এক অস্থিরতা কাজ করছিল। দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ সাহেব আব্দুল লতিফ মির্জা সাহেবকে নির্দোষ ঘোষণা করার সাথে সাথে বাঁধভাঙা আনন্দ যা ছড়িয়ে পড়লো পুরা আদালত প্রাঙ্গণে! সঙ্গে সঙ্গে আমি প্রিয় নেতা শ্রদ্ধেয় নানক ভাইকে ফোন করে জানাই এবং সংবাদটি তিনি দ্রুত মাননীয় নেত্রীকে জানাবেন বলেন। রাজশাহী থেকে উল্লাপাড়া ফেরার পথে মাইক্রোবাসে প্রাণপ্রিয় নেতা জনাব আব্দুল লতিফ মির্জা সাহেবের পাশে বসে আসার সময় তার কাছে অনেক কথা শুনছিলাম কিন্তু আমি মনে মনে ভাবছিলাম যে আমরা সবাই প্রিয় নেতাকে সাথে নিয়ে ফিরতে পারছি! আমি সকলের চোখেমুখে আনন্দ দেখতে পেয়েছিলাম, এ এক অন্যরকম অনুভূতি যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।
অনেক ত্যাগ ও বিসর্জনের মধ্যদিয়ে স্বাধীনতার নেতৃত্ব দানকারী সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আজ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। ক্ষমতার এই রাজনীতিতে অনেক নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি ব্যক্তিস্বার্থে এমন বক্তব্যে প্রদান করেন যা ত্রুটিপূর্ণ ও সম্পূর্ণ ভুল তথ্য নির্ভর! যা শুধু দুঃখজনক নয় অনেক কষ্টেরও বটে। দলের দুঃসময়ে যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিপীড়িত নেতাকর্মীকে আগলে রেখেছেন, রাজপথে লড়াই করেছেন ও আদালতে দাঁড়িয়েছেন তাদের এই আত্নত্যাগের অবমূল্যায়ন করলে নেতাকর্মীদের সামনে বিপরীতধর্মী নজির স্থাপিত হয়, যা কিনা ভবিষ্যতে অন্যদের নিরুৎসাহিত করবে। ক্ষমতার রাজনীতিতে অনেকের আগমন ঘটবে ও পরিবর্তন আসতে পারে, এটা খুব স্বাভাবিক। মনে রাখতে হবে ক্ষমতার এই রাজনীতির মাঝে যেন আসল নেতাকর্মী হারিয়ে না যায়। কারণ নেলসন মেন্ডেলা এক ভাষনে বলেছিলেন, “I’m not worried about my enemies because I know who are they, but I’m really worried about my followers because I don’t know how far I will get them behind me”. আমারা যেন ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে গিয়ে ত্যাগী নেতাকর্মীদের দূরে ঠেলে না দেই। কারণ এরা দুঃসময়ে পরীক্ষিত নেতাকর্মী যারা এই আওয়ামী লীগ দলটাকে নানা উত্থান পতন, ঘাতপ্রতিঘাতের মধ্যে টিকিয়ে রেখেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে নিয়ে দৃশ্যমান উন্নয়ন সাধিত করে ও একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। বাংলাদেশ আজ একটি সম্ভাবনার নাম। আসন্ন নির্বাচন নির্ধারন করে দিবে আগামী বাংলাদেশের উন্নয়নের সূচক। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগান তার দ্বিতীয় নির্বাচনে বলেন,” If you are better of today than you were before then vote me again please’. বাংলাদেশে চলমান উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে অব্যাহত রাখতে ও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাস্তব রূপদানে একজনের কোন বিকল্প নাই। তিনি হলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

লেখক:
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল,
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ ও
আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট।