আক্কেলপুরে সরিষার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

আপডেট: January 15, 2024 |
inbound5426925775727929629
print news

দেব্রত মন্ডল, আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) প্রতিনিধিঃ জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার ৫ টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার প্রতিটি গ্রামেই ব্যাপকভাবে চাষ করা হয়েছে সরিষার।

তবে উপজেলার আক্কেলপুর পৌরসভা সহ তিলকপুর, রায়কালি ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি সরিষার আবাদ করেছে স্থানীয় কৃষকরা।

যদি অনুকূল আবহাওয়া থাকে তাহলে সরিষাতে ধানের চেয়ে বেশি লাভজনক হবে বলে আশা করছেন কৃষকরা।

তারা সরিষা ঘরে তুলেই ধান চাষের জন্য জমি তৈরি করতে শুরু করবেন। এখন এসব এলাকার চাষিরা সরিষার পরিচর্যা নিয়ে ব্যাপক সময় পার করছেন। জমি থেকে পাকা সরিষা সংগ্রহ করতে পারলেই কৃষকদের চিন্তা দূর হবে।

চলতি মৌসুমে পুরো উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২হাজার ৪শ ১০ হেক্টর জমিতে।

বাজারে সরিষার দাম বেশি থাকায় ও উপজেলা কৃষি অফিস কৃষকদের চাষে উদ্বুদ্ধ করায় গতবারের চেয়ে এবার প্রায় ৩শ হেক্টর বেশি জমিতে সরিষা আবাদ করা হয়েছে।

আবহাওয়া অনুকূলে তারপরও দুঃচিন্তায় প্রহর গুনে দিন কাটাচ্ছে কৃষকরা। কৃষকের পছন্দ অনুযায়ী বিভিন্ন জাতের সরিষার আবাদ হলেও বারি ৯, ১৪, ১৭, ১৮, বিনা ৯ এর মধ্যে বারি ১৪ ও ১৮ জাতের সরিষা আবাদ হয়েছে প্রায় শতকরা ৯০ ভাগ ।

আক্কেলপুর উপজেলার রায়কালি ইউনিয়নের নারিকেলী গ্রামের কৃষক আব্দুস ছালাম বলেন, গত মৌসুমে ৪ বিঘা জমিতে সরিষা আবাদ করেছিলাম।

প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার টাকা লাভ হয়েছে। গত বছরের সরিষা আবাদে যে পরিমান লাভ হয়েছে তা দেখে এবার ৫বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি।

তিনি আরো বলেন, জমি তৈরি করা থেকে ফলন ঘরে তোলা পর্যন্ত প্রতি বিঘা জমিতে সরিষা আবাদে তার খরচ হয়েছে প্রায় ১২ হাজার টাকা।

যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে তাহলে এসব জমি থেকে প্রায় ৩৫ মণ সরিষার ফলন পাবেন বলে আশা করছেন।

একাধিক কৃষক জানান, অন্যান্য ফসলের মতো সরিষা আবাদে তেমন শ্রমের প্রয়োজন হয় না।

জমি থেকে পাকা সরিষা সংগ্রহ ও মাড়াই করে ফসল ঘরে তোলার জন্য পরিবারে পুরুষের পাশাপাশি নারী সদস্যরাও নিয়মিতভাবে কাজ করেন।

আক্কেলপুর পৌর সভার ৫নং ওয়ার্ডের মোঃ এমদাদ হোসেন বলেন, অল্প খরচ ও স্বল্প সময়ে সরিষার ফলন ঘরে তোলা যায়। ঝড় বৃষ্টি না হওয়ায় চলতি মৌসুমে সরিষার ফলনও হয়েছে বেশ।

তিনি আরও বলেন, ৮ বিঘা জমিতে সরিষা বোপণ করছি। রোদে শুকিয়ে গুদামজাত করে পরে বিক্রি করতে পারলে সরিষার বাজারদর আরও বেশি পাওয়া যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের কাঁনচপাড়া গ্রামের কৃষক মোঃ মাসুম বিল্লাহ বলেন, গত বছর সরিষা চাষে যে লাভ হয়েছে এর আগে ধান আবাদ করে কোনভাবেই সম্ভব হয়নি।

তাই এবার আগাম জাতের ধান রোপণ করেছিলাম। ধান কেটেই ১৫ বিঘা জমিতে সরিষা বোপণ করছি এবং ফলন অনেক ভালো হয়েছে।

তিনি জানান প্রতি বিঘা জমিতে সরিষা উৎপাদিত হয় কম পক্ষে ৬ থেকে ৮ মণ । জমিতে হাল চাষের পর বীজ বপন, সার ও সেচ দিতে হয় ।

প্রতি বিঘা জমিতে কাটা মাড়াই খরচ হয় গড়ে ১১হাজার টাকা। আর প্রতি মণ সরিষা বিক্রি হবে ২৫শ থেকে ৩ হাজার টাকায়। উৎপাদন ব্যয়ে প্রতি বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করে কমপক্ষে ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব।

আক্কেলপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ ইমরান হোসেন বলেন, ভোজ্য তেলের মাত্র ১২ % দেশে উৎপাদিত হয় আর বাকি ৮৮ % বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।

এই আমদানি নির্ভরশীলতা কমানোর জন্য সরিষা ফসলের আবাদ বৃদ্ধি করে আগামী ৩বছরের মধ্যে উৎপাদন ৪০ শতাংশে উন্নতি করার জন্য সরকার লক্ষ্য স্থির করেছে।

তারই ধারাবাহিকতায় আক্কেলপুর উপজেলায় এ বছর ২হাজার ৪শ ১০হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করা হয়েছে যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩শ হেক্টর জমিতে বেশি আবাদ হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রনোদনা মাধ্যমে ৩হাজার ৬শত কৃষকের মাঝে সার বীজ বিতরণের পাশাপাশি উদ্বুদ্ধকরণ সভা , মাঠ দিবস ও কারিগরি আলোচনা এবং গ্রাম পর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে উঠান বৈঠক করে সরিষা চাষ আবাদে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে।

চলতি মৌসুমে আবহাওয়া ভালো থাকায় সরিষার বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। সরিষা চাষ করে কৃষকরা অল্প খরচে বেশি লাভবান হয়।

সরিষার ভালো ফলন পেতে হলে অন্যান্য সারের পাশাপাশি৷ বোরন সার ব্যবহার করা উচিত।

সরিষা ক্ষেত রোগ বালাইয়ের আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য ফুল ফোঁটা শেষ হলে এবং তার ১০ দিন পরে দুবার রোভরাল ৫০ ডব্লিউ পি অথবা রিপকর্ড বা অনুমোদিত কীটনাশক স্প্রে করা উচিত।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর