রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে চালু হচ্ছে ই-টিকিটিং

আপডেট: January 20, 2026 |
inbound593835184388515381
print news

রাজধানীর বাস চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে রঙ বদলের কৌশলে ব্যর্থতার পর এবার ই-টিকেটিং ব্যবস্থায় সব সমস্যার সমাধান খুঁজছে বাস মালিক, শ্রমিক ও পুলিশ।

এই ব্যবস্থা চালুর পরে বাসগুলোর মধ্যে অসম প্রতিযোগিতা ‘দূর হবে’। স্টপেজগুলোতে যাত্রীর অপেক্ষায় জটলা পাকিয়ে বাস দাঁড়িয়ে ‘থাকবে না’, টিকেট হাতে অপেক্ষা করবেন যাত্রীরা—এমন আশাই দেখাচ্ছেন তারা।

পর্যায়ক্রমে ভাঙাচোরা বাসগুলো তুলে নিয়ে ঢাকায় আধুনিক সুবিধা সম্বলিত দৃষ্টিনন্দন বাস নামানোর কথাও বলছেন তারা।

সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে অনুষ্ঠানিকভাবে এই পদ্ধতি উদ্বোধন করা হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশ, ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন, ঢাকা জেলা সড়ক পরিবহন যানবাহন শ্রমিক ইউনিয়নসহ কয়েকটি শ্রমিক সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে এই পদ্ধতি বাস্তবায়নের কথা বলা হচ্ছে। আরবানমুভ টেক নামের একটি কোম্পানি এ ব্যবস্থায় কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে।

আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই পদ্ধতি পুরোদমে চালু করার কথা বলা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

তবে ঢাকার ট্রাফিক ও গণপরিবহন ব্যবস্থা উন্নয়নের দায়িত্ব যেই সংস্থার, সেই ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ বা ডিটিসিএ’র কোনো প্রতিনিধিকে দেখা যায়নি ওই সংবাদ সম্মেলনে। ‘ডিটিসিএকে পাশ কাটিয়ে’ এমন উদ্যোগ নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত বছরের শুরুতেই গুচ্ছ পদ্ধতিতে বিভিন্ন রুটভিত্তিক বাসের রঙ পাল্টে রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা করেছিল সরকার। তবে বছর না ঘুরতেই তা দৃশ্যত ব্যর্থ হয়।

রঙ বদলের এই পদ্ধতি অবশ্য নতুন কিছু নয়। বিগত বছরগুলোতেও কিছু দিন পরপরই এসেছে নতুন নতুন পদ্ধতি। কখনো বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি, কখনো নগর পরিবহন, কখনো কাউন্টারভিত্তিক বাস চলাচল পদ্ধতির ঘটা করে উদ্বোধন দেখেছে নগরবাসী। তবে কয়েকদিন যেতে না যেতেই আবারও পুরনো চেহারায় ফিরেছে বাসগুলো।

ছাল-চামড়া ওঠা লক্কড়-ঝক্কড় বাসগুলো কালো ধোঁয়া ছেড়েও যেন চলতেই চায় না। যাত্রী ধরার অসম প্রতিযোগিতা। পেছনের বাসের পথ আটকাতে গিয়ে জায়গায় জায়গায় রাস্তা আটকে বাস রাখেন চালকেরা। থেমে থেমে পাঁচ মিনিটের পথ চলে আধা ঘণ্টা বা তারও বেশি সময়ে।

তবে এবার ঢাকার পুলিশের সঙ্গে বাস মালিক ও শ্রমিকরা জোট বেঁধে বলছেন এবার পরিবর্তন আসবে। আর সেই পরিবর্তনের ‘জাদুকাঠি’ হিসেবে তারা দেখাচ্ছেন ‘ই-টিকেটিং’।

বাস রুট র‌্যাশনালাইজেশন পদ্ধতি বাস্তবায়নের কাজটি করে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। তবে সোমবারের ই-টিকেটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিটিসিএ’র কোনো প্রতিনিধিই উপস্থিত ছিলেন না।

এ বিষয়ে ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক মশিউর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, “কাজটা তো আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করেই করার কথা। তবে কেন আমাদের ডাকল না, তা তো বলতে পারছি না।”

অনুষ্ঠানে ডিটিসিএ নেই কেন—এ প্রশ্নে ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, “আমরা এই উদ্যোগের জন্য সবসময়ই ডিটিসিএর সঙ্গে সমন্বয় করেছি, বিআরটিএর সঙ্গেও আলোচনা করেছি। তবে আজকের প্রোগ্রামটা তারা যেহেতু পারসোনালি স্বল্প পরিসরে করেছে, সেজন্য হয়ত সব সংস্থাকে বলতে পারেনি।”

‘ই-টিকেটিং’ ব্যবস্থায় ঢাকার আটশর বেশি বাস স্টপেজে সাড়ে ৩ হাজারের বেশি টিকেট মাস্টার থাকবেন। স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা কিউআর কোড স্ক্যান করে অ্যাপ ডাউনলোড করে টিকেট কাটতে পারবেন। পর্যায়ক্রমে র‌্যাপিড পাসও যুক্ত করা হবে।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম বলেন, “এর মূল কারণটা হল ‘অসুস্থ প্রতিযোগিতা’… ই-টিকেটিং ব্যবস্থা কার্যকর হলে নির্দিষ্ট রুটের গাড়ি সেই রুটেই চলতে পারবে, তখন এসব বিশৃঙ্খলা অনেকটাই বন্ধ হয়ে যাবে।”

তিনি আরও বলেন, “এবার যেখান থেকে যেই যাত্রী গাড়িতে উঠুক না কেন, তাকে টিকেট নিতে হবে। সেই কারণে আমরা এবার বিশ্বাস করি যে এটা কার্যকর হওয়া সম্ভব।”

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) আনিসুর রহমান বলেন, “আমরা একটা আশার আলো দেখতে পাচ্ছি।”

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন) সারওয়ার হোসেন বলেন, “এই টিকেট সিস্টেম সচল রাখার জন্য ডিএমপিসহ সরকারি সংস্থাগুলো কাজ করবে।”

সূত্র: বিডি নিউজ

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর