সাফ উইমেন’স ফুটসালে মালদ্বীপকে উড়িয়ে ইতিহাস গড়লো বাংলাদেশ

থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত প্রথম সাফ উইমেন’স ফুটসাল প্রতিযোগিতায় ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। রোববার টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচে মালদ্বীপকে ১৪-২ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে সাবিনা-কৃষ্ণারা। রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতিতে খেলা এই টুর্নামেন্টে ৬ ম্যাচে ৫ জয় ও ১ ড্রয়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থেকে শিরোপা নিশ্চিত করে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
শুরুতে এগিয়ে গেল মালদ্বীপ। একপেশে ম্যাচে চমক বলতে এতটুকুই! এরপর দ্রুতই আড়মোড় ভেঙে জেগে উঠলেন সাবিনা-মাসুরারা। মালদ্বীপকে চেপে ধরে গোল করলেন মুড়িমুড়কির মতো। বিশাল জয়ে লেখা হলো ইতিহাস। মেয়েদের সাফ উইমেন’স ফুটসালের প্রথম শিরোপা বাংলাদেশ জিতে নিল অপরাজিত থেকে।
ভারতকে ৩-১ গোলে হারিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু করা বাংলাদেশ দ্বিতীয় ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষে ৩-৩ ড্র করেছিল। পরের তিন ম্যাচে যথাক্রমে নেপালকে ৩-০, শ্রীলঙ্কাকে ৬-২ এবং পাকিস্তানকে ৯-১ গোলে হারায় দল।
পাকিস্তানকে উড়িয়ে দেওয়ার পরই শিরোপা ঘ্রাণ পাচ্ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সাবিনাদেরকে চমকে দিয়ে চতুর্থ মিনিটে এগিয়ে যায় মালদ্বীপ। সানিয়া ইব্রাহিমের টোকায় ঝিলির গ্লাভস ছুঁয়ে, মাসুরা পারভীনের গায়ে লেগে বল ছুটছিল জালের দিকে। মাসুরা কয়েকদফা চেষ্টা করেও বল ফেরাতে পারেননি।
একটু পরই দূরপাল্লার ফ্রি কিকে দারুণ এক গোল করে সমতায় ফেরান সাবিনা। বাংলাদেশের দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ানোরও শুরু। এরপর সার্কেলে কৃষ্ণা রানী সরকার ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় বাংলাদেশ, কিন্তু পোস্টের বাইরে শট নিয়ে হতাশ করেন সাবিনা। কিছুক্ষণ পর সার্কেলের বাইরে থেকে ফ্রি কিক থেকেই ব্যবধান বাড়ান বাংলাদেশ অধিনায়ক।
প্রথমার্ধের শেষ পাঁচ মিনিটে চার গোলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ মুঠোয় নেয় বাংলাদেশ। সাবিনার পাস ধরে কৃষ্ণা দূরূহ কোণ থেকে স্কোরলাইন ৩-১ করেন। এরপর কৃষ্ণার পাস নিলুফা আক্তার নীলা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাড়ান লিপি আক্তারকে, টোকায় ব্যবধান আরও বাড়ে।
১৯তম মিনিটে সার্কেলের ভেতর থেকে লিপি আক্তার এবং নৌশিন জাহানের লক্ষ্যভেদে ৬-১ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।
দ্বিতীয়ার্ধের তৃতীয় মিনিটে দূরপাল্লার শটে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন সাবিনা। একটু পরই মাতসুশিমা সুমাইয়া ব্যবধান আরও বাড়ান। পঞ্চম মিনিটে ডান পায়ের বুলেট শটে স্কোরলাইন ৯-১ করেন সাবিনা।
এ অর্ধের দশম মিনিটে নীলার কোনাকুনি শটে ব্যবধান আরও বাড়ে। এরপর সাবিনার ফ্লিকে বল পাওয়ার পর লিপি পূরণ করেন হ্যাটট্রিক। বড় জয়ের পথে ছুটতে থাকে বাংলাদেশ। পরে আরও তিন গোলে জয় নিশ্চিত হয়ে যায়। শেষের বাঁশি বাজার আগ মুহূর্তে মালদ্বীপ ফিরিয়ে দেয় এক গোলে, তাতে সাবিনা-মাসুরাদের বাধনহারা উদযাপনের কমতি হয়নি একটুও।












