দেশের প্রত্যেক উপজেলাতে শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা হবে: সংস্কৃতি মন্ত্রী

দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে সরকার বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে উল্লেখ করে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, দেশের প্রত্যেক উপজেলায় আধুনিক লাইব্রেরি স্থাপন করা হবে। জেলা পর্যায়ের মতো উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হবে।
আজ বিকেলে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অমর একুশে বইমেলার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে তিনি ১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদ এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। চব্বিশের জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে যারা শাহাদাত বরণ করেছেন, তাদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তাদের এই ত্যাগই আমাদের নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, জ্ঞানের আলোয় সমাজকে আলোকিত করার আহ্বান জানিয়ে একটি জাতিকে ধ্বংস করার জন্য তাদের লাইব্রেরি ও বই ধ্বংস করাই যথেষ্ট। তাই জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠন করতে হবে। একটি গণতান্ত্রিক সমাজের সৌন্দর্য হলো তার বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য। রাজনীতি ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু দেশের বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার একটি সমৃদ্ধ ও সাংস্কৃতিক মডেলে রূপান্তর করার কাজ চলছে। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও এবারের মেলা সফলভাবে সম্পন্ন করায় তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মফিদুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, এবারের বইমেলা অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল হয়েছে। প্রকৃত পাঠকের সমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো। বইমেলাকে বিভাগীয়, জেলা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও ছড়িয়ে দিতে মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি জানান।
বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাপনী আয়োজনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম , সচিব ড. মোঃ সেলিম রেজা। বক্তারা মেলায় আগত লেখক, প্রকাশক ও পাঠকদের ধন্যবাদ জানিয়ে আগামী বছর আরও বর্ণিল আয়োজনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।













