ইবাদত বন্দেগিতে পালিত পবিত্র লাইলাতুল কদর

আপডেট: March 17, 2026 |
inbound8591799652116969060
print news

যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সারাদেশে পালিত হলো পবিত্র শবে কদর। মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ এবং নাজাত লাভের আশায় রাতভর ইবাদত বন্দেগীতে সময় পার করেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।

সোমবার দিনগত রাতে রাজধানীসহ দেশের প্রতিটি মসজিদে মুসল্লিদের ভীড় দেখা গেছে।

হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ রজনী পবিত্র শবে কদর। ইসলামি দর্শনে শবে কদরের মূল মাহাত্ম্য নিহিত রয়েছে আল-কুরআন নাজিলের সূচনালগ্নে। এই রাতে ফেরেশতারা শান্তি ও রহমত নিয়ে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন, যা ভোরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এটি কেবল রাত জাগার উৎসব নয়, বরং অন্ধকার থেকে আলোর পথে ফেরার এক ঐশী সুযোগ।

মুমিনরা তওবার মাধ্যমে বিগত জীবনের পঙ্কিলতা ধুয়ে নতুন এক পরিশুদ্ধ জীবনের শপথ নেন।

লাইলাতুল কদরের ফজিলত, গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মুফতি মুহাম্মদ মিজানুর রহমান।

কুরআনের নির্দেশ বাস্তব জীবনে মেনে নফল নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির-আসকার এবং দোয়ার মাধ্যমে অতিবাহিত করার পরামর্শ এই ইমামের।

মাহে রমজানের এ রাতেই মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর পবিত্র কোরআন নাজিল হয়। তাই এ রাত সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কাছে এক পুণ্যময় ও মহিমান্বিত রাত হিসেবে বিবেচিত। ইসলাম ধর্মে এ রাতের ইবাদতকে বিশেষ তাৎপর্যময় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই রাতে আল্লাহর অশেষ রহমত ও নিয়ামত বর্ষিত হয় এবং মুমিন বান্দারা ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য ও মাগফিরাত লাভের অসীম সুযোগ পান।

পবিত্র রমজান মাসের এই মহিমান্বিত রাতেই মানবজাতির হেদায়েতের আলোকবর্তিকা আল কোরআন নাজিল হয়েছিল। এই বিশেষ গুরুত্বের কারণে মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মসজিদ ও বাসা-বাড়িতে রাতভর ইবাদতে মশগুল থাকেন।

পবিত্র এই রজনীতে মুসলমানরা নফল নামাজ আদায়, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আসকার, মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ দোয়ার মাধ্যমে অতিবাহিত করেন। আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় আল্লাহর দরবারে অশ্রুসিক্ত প্রার্থনা জানাচ্ছেন ধর্মপ্রাণ মানুষ।

এই রাতের পুণ্য ও বরকত যেন সারাবছর মানুষের জীবনে প্রতিফলন ঘটে—এমনটাই প্রার্থনা মুসল্লিদের।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর