হান্টাভাইরাসে আক্রান্ত প্রমোদতরী ছাড়ল শেষ যাত্রীরা

আপডেট: May 12, 2026 |
inbound227378741144606886
print news

হান্টাভাইরাস আক্রান্ত প্রমোদতরী থেকে সব যাত্রীদেরই সরিয়ে নেওয়ার পর কর্তৃপক্ষ আরও তিনজনের দেহে প্রাণঘাতী এ ভাইরাসটির উপস্থিতির কথা নিশ্চিত করেছে।

সোমবার (১১ মে) চার অস্ট্রেলীয়, এক ব্রিটিশ ও এক নিউজিল্যান্ডের নাগরিক ও কিছু ক্রু সদস্য প্রমোদতরী ছাড়ার পর এমভি হন্দিয়াস স্পেনের টেনেরিফ থেকে নেদারল্যান্ডসের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় বলে জানিয়েছে বিবিসি।

এই জাহাজে ভ্রমণ করতে এসে তিন যাত্রীর মৃত্যুর হয়েছে, তাদের মধ্যে দুজনের দেহেই হান্টাভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

আগেই দেশে ফেরা এক আমেরিকান ও এক ফরাসী নাগরিকের দেহে ভাইরাসটির উপস্থিতি মিলেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এমভি হন্দিয়াস সংশ্লিষ্ট ৭ জনের দেহে ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে। পাশাপাশি আরও দুইজনের দেহে ভাইরাসটি থাকতে পারে বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে।

প্রমোদতরীটি থেকে সরিয়ে মাদ্রিদে কোয়ারেন্টিনে রাখা এক স্পেনের নাগরিকের দেহেও সোমবার প্রাথমিক পরীক্ষায় ভাইরাসের অস্তিত্ব মিলেছে বলে জানিয়েছে স্পেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

সোমবার মার্কিন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোববার দেশে ফেরার ফ্লাইটে থাকা আরেক আমেরিকানের দেহেও ভাইরাসটির মৃদু উপসর্গ পাওয়া গেছে।

সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে দুই মার্কিনিকেই ‘বায়োকন্টেইনমেন্ট ইউনিটে’ রাখা হয়েছে।

প্যারিসে এক নারীকে ‘আইসোলেশনে’ রাখা হয়েছে এবং তার স্বাস্থ্যের ক্রমাবনতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ফরাসী স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্তেফানি রিস্ট। ওই নারীর সংস্পর্শে আসা ২২ জনকেও শনাক্ত করা হয়েছে।

ভাইরাসটিতে আক্রান্ত ২ ব্রিটিশ নাগরিক এখন নেদারল্যান্ডস ও দক্ষিণ আফ্রিকায় চিকিৎসাধীন।

সাধারণত ইঁদুর বা এই জাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে হান্টাভাইরাস ছড়ালেও, এর ‘অ্যান্ডিস স্ট্রেইন’ মানুষের মাধ্যমে ছড়াতে সক্ষম।

ডব্লিউএইচও মনে করছে, দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থানের সময় প্রমোদতরীটির যাত্রীরা এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

এর প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্বর, চরম ক্লান্তি, মাংসপেশিতে ব্যথা, বমি ও শ্বাসকষ্ট।

তবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, ভাইরাসটির বড় ধরনের প্রাদুর্ভাবের সম্ভাবনা ‘খুব কম’।

সোমবার সন্ধ্যায় এমভি হন্দিয়াস পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ওশানওয়াইড এক্সপেডিশনস বলেছে, তাদের নৌযানে এখনও ২৭ জন আছেন। এদের মধ্যে ২৫ জনই ক্রু, বাকি দুইজন চিকিৎসাকর্মী।

এই ২৭ জনের মধ্যে ১৭ জনই ফিলিপিন্সের, চারজন নেদারল্যান্ডসের (এদের দুজনই চিকিৎসাকর্মী), চারজন ইউক্রেইনের। রাশিয়া ও পোল্যান্ডের আছে একজন করে।

ইউক্রেইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হন্দিয়াসে থাকা ইউক্রেইনীয়রা নৌযানটিকে নেদারল্যান্ডসে নিয়ে যেতে সহায়তা করছে এবং সেখানে নামার পরপরই কোনো চিকিৎসা কেন্দ্রে ‘কোয়ারেন্টিনে’ চলে যাবে। ইউক্রেইনীয় ক্রু’দের দেহে এখন পর্যন্ত ভাইরাসটির কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি বলেও তারা নিশ্চিত করেছে।

স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে নোঙর করা এমভি হন্দিয়াস থেকে গত কয়েকদিনে ৯০ জনের বেশি যাত্রীকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

টেনেরিফ থেকে ক্যেবেক হয়ে কানাডার চার যাত্রী রোববার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ভিক্টোরিয়াতে নেমেছে। তারা স্বেচ্ছা আইসোলেশনে থাকবেন, এবং তাদেরকে অন্তত তিন সপ্তাহ পর্যবেক্ষণে রাখা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোববার দেশে ফেরার ফ্লাইটে থাকা ১৭ মার্কিন নাগরিকের সবাইকে নেব্রাস্কার এক চিকিৎসা কেন্দ্রে ‘ক্লিনিকাল পর্যালোচনার’ ভেতর দিয়ে যেতে হবে। ওই ফ্লাইটে করে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এক ব্রিটিশ নাগরিকও ফিরেছেন।

এর বাইরে আরও ৭ মার্কিন নাগরিক এরইমধ্যে বাড়ি চলে গেছেন, তারা নিজ নিজ রাজ্যে পর্যবেক্ষণে থাকবেন।

মার্কিন এক নাগরিকের দেহে ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার আগেই ডব্লিউএইচও-র প্রধান তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়াসুস হান্টাভাইরাস নিয়ে তাদের নির্দেশনা অনুসরণ না করার যে সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র নিয়েছে, তাতে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

ডব্লিউএইচও এমভি হন্দিয়াস ছাড়া প্রত্যেককে ৪২ দিন আইসোলেশনে রাখার পরামর্শ দিয়েছিল।

গেব্রিয়াসুস সতর্ক করে বলেন, ডব্লিউএইচও-র নির্দেশিকা না মানা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) ভারপ্রাপ্ত প্রধান ডক্টর জয় ভট্টাচার্য জনমনে আতঙ্ক না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, মানুষের মাধ্যমে এই সংক্রমণ বিরল এবং একে কোভিডের মতো দেখা উচিত নয়।

গত ১১ এপ্রিল এমভি হন্দিয়াসে প্রথম এক প্রবীণ ডাচ নাগরিকের মৃত্যু হয়। দেহে ভাইরাসের উপস্থিতি পরীক্ষা করার আগেই তিনি মারা যান। তবে শুরুতে তার দেহে ভাইরাসের কিছু উপসর্গ দেখা গিয়েছিল বলে তিনিও আক্রান্ত ছিলেন বলে মনে করা হচ্চে।

তার মৃত্যুর কয়েকদিন পর তার স্ত্রী দক্ষিণ আফ্রিকায় এবং ২ মে এক জার্মান নারী জাহাজে মারা যান। এ দুজনের দেহেই ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া যায়।

প্রমোদতরীটি গত ১ এপ্রিল আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া থেকে যাত্রা শুরু করেছিল।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর