জঙ্গল ছলিমপুরে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলার ঘটনায় মামলা

চট্টগ্রামের জঙ্গল ছলিমপুরে যৌথবাহিনীর ক্যাম্পে হামলার ঘটনায় মামলা করেছে পুলিশ।
সীতাকুণ্ড থানায় সোমবার রাতে ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করে পুলিশ মামলাটি করেছে।
সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলমগীর হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ফৌজদারহাট ফাঁড়ির পরিদর্শক সোহেল রানা বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। মামলায় ঘটনাস্থল থেকে আটক করা পাঁচজনসহ ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাত আরও দুই থেকে তিনশ জনকে আসামি করা হয়েছে।
উস্কানি দিয়ে সরকারি সম্পত্তি ক্ষয়ক্ষতি সাধন, পুলিশের কাজে বাধা ও বিষ্ফোরণসহ বিভিন্ন ধারায় মামলাটি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
রোববার গভীর রাতে মূল সড়কের বিভিন্ন স্থানে রাস্তা কেটে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে ত্রিমুখী হামলা চালিয়েছে সন্ত্রাসীরা। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা ধরে গোলাগুলি চালানোর পাশাপাশি নির্মাণাধীণ একটি ক্যাম্প তারা ভেঙে দিয়েছে।
সেখানকার দায়িত্বরত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, স্থানীয় লোকজন ও ক্যাম্প নির্মাণের কাজে সম্পৃক্ত শ্রমিকরা জানিয়েছেন, ট্রাকে করে এক্সক্যাভেটর নিয়ে আসে সন্ত্রাসীরা পেছনে মোটর সাইকেলে করে তাদের লোকজন আসে। তারাই আলী নগর স্কুলের পূর্ব, পশ্চিম পাশ এবং দক্ষিণ পাশ থেকে হামলা শুরু করে। ইটপাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ গুলিও ছোড়ে তারা।
র্যাব-৭ অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান এ ঘটনার জন্য জঙ্গল ছলিমপুরের ‘অধরা নিয়ন্ত্রক’ ইয়াছিন বাহিনীকে দায়ী করেছেন।
সোমবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বায়েজিদ লিঙ্ক রোড থেকে যাওয়ার পথে জঙ্গল ছলিমপুরের খেজুর তলা, পাথরি ঘোনা ও আলী নগর চৌরাস্তা মোড় এলাকায় চারটি স্থানে এক্সক্যাভেপর দিয়ে রাস্তা কেটে ফেলা হয়েছে। সে কারণে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও পুলিশের কোনো গাড়ি ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি। কয়েক কিলোমিটার পায়ে হেঁটে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
ঘটনাস্থলে চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মাসুদ আলম সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, পুলিশেরই প্রায় ১০৫ রাউন্ড গুলি ছোড়া লেগেছিল। হামলার পর সন্ত্রাসীরা পাহাড়ের দিকে চলে যায়। তাদের রেখে যাওয়া এক্সক্যাভেটর, ভেকু মেশিন, ট্রাক, দুটি মোটর সাইকেল পুলিশ জব্দ করেছে।
তবে মামলায় কাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে সে বিষয়টি জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক আলমগীর।












