ডাঃ না হয়েও প্রেসক্রিপশনে “ডাঃ” লিখে চিকিৎসার নামে প্রতারণা, চরম ভোগান্তিতে রোগীরা

আপডেট: May 20, 2026 |
dsadddsfdsf
print news

জাহাঙ্গীর আলম ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় বিএমডিসি (বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল) নিবন্ধন ছাড়া এবং ন্যূনতম এমবিবিএস বা বিডিএস ডিগ্রি না থাকা সত্ত্বেও নামের আগে ‘ডাঃ’ পদবি ব্যবহার করে প্রেসক্রিপশন (ব্যবস্থাপত্র) দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক সেকমো (SACMO) কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। তিনি অফিসার পদবী ধারী ৩য় শ্রেণীর কর্মকর্তা হয়ে কি করে ১ম শ্রেণীর পদবী ব্যবহার করেন। এতে স্থানীয় সাধারণ রোগীদের বিভ্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি জনমনে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি প্রেসক্রিপশন থেকে জানা যায়, পীরগঞ্জের রঘুনাথপুরের কলেজ বাজার রোডে অবস্থিত ‘কেয়ার ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার’-এর চেম্বারে রোগী দেখছেন মোছাঃ রেজিনা আক্তার নামে এক উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (SACMO)। তবে তার চিকিৎসা প্যাডের ওপরে বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে “ডাঃ মোছাঃ রেজিনা আক্তার”।

প্রেসক্রিপশনের তথ্য ও অসংগতি অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রেসক্রিপশনের প্যাডে বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে “ডাঃ মোছাঃ রেজিনা আক্তার”। কিন্তু তার ঠিক নিচেই ছোট অক্ষরে লেখা তার প্রকৃত পদবি— S.A.C.M.O (Sub-Assistant Community Medical Officer) বা উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার। তিনি মূলত আই.এম.সি.আই (IMCI) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন উপ-সহকারী কর্মকর্তা মাত্র।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC) আইন ২০১০ এর ২৯ ধারা অনুযায়ী, ন্যূনতম এমবিবিএস (MBBS) বা বিডিএস (BDS) ডিগ্রিধারী ছাড়া অন্য কেউ নামের আগে ‘ডাক্তার’ বা ‘ডাঃ’ পদবি ব্যবহার করতে পারবেন না। এটি সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ। অথচ উক্ত কর্মকর্তা আইনকে তোয়াক্কা না করে নিজেকে বড় ডাক্তার হিসেবে জাহির করে আসছেন।

জটিল রোগের ভুল বা ঝুঁকিপূর্ণ চিকিৎসা ছড়ানো প্রেসক্রিপশনটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, গত ৯ মে ২০২৬ তারিখে সীমা আক্তার (১৯) বছর বয়সী এক গর্ভবতী রোগীর জন্য এই চিকিৎসাপত্রটি ইস্যু করা হয়। প্রেসক্রিপশনের বাম পাশে রোগের বিবরণীতে লেখা রয়েছে “missed abortion” (গর্ভেই সন্তান নষ্ট বা মারা যাওয়া)।

একটি ‘মিসড অ্যাবোরশন’ বা গর্ভপাতের মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও জটিল গাইনি সমস্যার চিকিৎসার জন্য যেখানে একজন বিশেষজ্ঞ (Gynecologist) চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া বাধ্যতামূলক, সেখানে একজন স্যাকমো (SACMO) এই জটিল রোগের চিকিৎসা দিচ্ছেন। চিকিৎসাপত্রে তিনি রোগীকে স্যালাইন (Inf – Fertisol) এবং বিভিন্ন ট্যাবলেট (যেমন- Emistat, Pantonix) প্রেসক্রাইব করেছেন, যা একজন সাধারণ স্বাস্থ্য সহকারীর এখতিয়ার বর্হিভূত বলে মনে করছেন চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, “আমরা সাধারণ মানুষ এত ডিগ্রি বুঝি না। প্যাডের ওপর বড় করে ‘ডাক্তার’ লেখা দেখেই বিশ্বাস করে গাইনি ও গর্ভবতী রোগীদের এখানে নিয়ে আসি। কিন্তু একজন সেকমো কীভাবে ‘মিসড অ্যাবোরশন’-এর মতো জটিল কেস নিজে নিজে হ্যান্ডেল করেন এবং নামের আগে ‘ডাঃ’ লেখেন, তা আমাদের বোধগম্য নয়।”

এলাকার সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী রোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্যাডে বড় অক্ষরে ‘ডাঃ’ লেখা দেখে তারা প্রতারিত হচ্ছেন। মফস্বল এলাকার সাধারণ রোগীদের সরলতার সুযোগ নিয়ে এভাবে ভুয়া পদবি ব্যবহার করে চিকিৎসা দেওয়া শুধু আইনগত অপরাধই নয়, বরং রোগীদের জীবনের জন্যও চরম ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মনে করে এসে তারা ভুল চিকিৎসার শিকার হচ্ছেন এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। তারা অতি দ্রুত এই ভুয়া ডাক্তারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর আইনগত ব্যবস্থা ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (SACMO) মোছাঃ রেজিনা আক্তারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোন কেটে দেন।

পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (অ দাঃ) ডাঃ আবুল বাসার মোঃ সায়েদুজ্জামানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC) আইন ২০১০ এর ২৯ ধারা অনুযায়ী, ন্যূনতম এমবিবিএস (MBBS) বা বিডিএস (BDS) ডিগ্রিধারী ছাড়া অন্য কেউ নামের আগে ‘ডাক্তার’ বা ‘ডাঃ’ পদবি ব্যবহার করতে পারবেন না। একজন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নামের পুর্বে ডাঃ লেখাটি লিখতে পারেন না এবং ‘মিসড অ্যাবোরশন’ বা গর্ভপাতের মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও জটিল চিকিৎসা উনি করাতে পারেন না। এটি সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ। এটা একধরনের চিকিৎসা সেবায় প্রতারণা। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর