এটিএম ভাই ছিলেন একজন আদর্শ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব : হানিফ সংকেত

আপডেট: February 20, 2021 |
print news

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকে ঝরে গেল আরো একটি নক্ষত্র। সকলের প্রিয় অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান। আমাদের এটিএম ভাই। বর্ণাঢ্য যার অভিনয় জীবন। বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা নিয়ে দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। অবশেষে আজ সকালে সূত্রাপুরে তার নিজস্ব বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

অত্যন্ত মেধাবী, প্রাণবন্ত, বিনয়ী, সহজ-সরল মানুষ ছিলেন এটিএম ভাই। ছিলেন একজন আদর্শ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। অসুস্থতার সময় নিয়মিত তার খোঁজ-খবর রাখার চেষ্টা করতাম। হাসপাতালেও গিয়েছি। রুনী ভাবীর সঙ্গে নিয়মিত কথা হতো। এটিএম ভাই ছিলেন ‘ইত্যাদি’র বিশেষ অনুষ্ঠানগুলোর প্রায় নিয়মিত শিল্পী। এছাড়াও আমার অন্যান্য অনুষ্ঠান ও অনেকগুলো নাটকে তাঁকে নেওয়ার সুযোগ হয়েছিল। তাই কাছ থেকে দেখেছি, গভীরভাবে মেশার সুযোগ পেয়েছি। ছিল আন্তরিক সম্পর্ক।

ইত্যাদি’র প্রতি তাঁর একটা বিশেষ দুর্বলতাও ছিল। আর সেজন্যই চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায়ও তিনি বারবার ইত্যাদির কথা স্মরণ করেছেন। হাসপাতালে দেখতে গেলে সুস্থ হয়ে আবারও ইত্যাদির ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। তাই প্রথম যখন কিছুটা সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন তখনই ভাবী আমাকে জানিয়েছিলেন- তিনি ইত্যাদিতে অভিনয় করতে চান। যেহেতু আমরা আমাদের নিজস্ব শুটিং স্পটে কাজ করি এবং এখানকার পরিবেশ, খাওয়া-দাওয়া সবকিছুতে তিনি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, তাই তার বিশ্বাস এখানে এসে অভিনয় করলে তার শারীরিক কোনো অসুবিধা হবে না। তাই এখান থেকেই তিনি আবার যাত্রা শুরু করতে চেয়েছিলেন।

আরেকজন বর্ষীয়ান অভিনেতা জনাব মাসুদ আলী খানের সঙ্গে জুটি বেঁধে সেসময় ইত্যাদির জন্য ছোট্ট একটি নাট্যাংশ নির্মাণ করেছিলাম। যেটি পরবর্তী সময়ে ইত্যাদিতে প্রচার হয়। আর ইত্যাদিতে করা সেই অভিনয়টুকুই ছিল এটিএম ভাইয়ের জীবনের শেষ অভিনয়। অনেক শিল্পীরই বিকল্প তৈরি হয়, কিংবা করা যায় কিন্তু এটিএম শামসুজ্জামানের কখনোই কোনো বিকল্প ছিল না। আর তৈরি হবে কিনা জানি না। প্রতিটি চরিত্রই ছিল তাঁর অভিনয় নৈপুণ্যে আলাদা বৈশিষ্ট্যের। এই মহান শিল্পীর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। আমরা তাঁর মাগফিরাত কামনা করছি।

বৈশাখী নিউজফাজা

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর