ভারত ও পাকিস্তান প্রাক-বর্ষায় তাপপ্রবাহের কবলে

প্রচণ্ড তাপদাহ গ্রাস করায়, ভারত ও পাকিস্তানে মানব স্বাস্থ্য, জৈব-অজৈব জীবন ধারা, কৃষি, জল, বিদ্যুৎ এবং অর্থনীতিতে এর ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আবহাওয়াবিদরা।

গত কয়েকদিন ধরে, ভারত ও পাকিস্তানের ব্যাপক অঞ্চল জুড়ে, ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা বিরাজ করছে। তাপদাহের এই তীব্রতা আগামী ২ মে পর্যন্ত অব্যাহত থাকার পর, কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডাব্লিউএমও) বলছে, ভারত ও পাকিস্তান উভয়েই নিয়মিতভাবে প্রাক-বর্ষাকালীন, বিশেষ করে মে মাসে, উচ্চ তাপমাত্রা অনুভব করে। সংস্থাটি বলছে, এপ্রিল মাসে তাপপ্রবাহ দেখা গেলেও, এ মাসে খুব একটা তাপপ্রবাহ সৃষ্টি হয় না।

ডাব্লিউএমও’র মুখপাত্র ক্লেয়ার নুলিস বলেছেন, “উভয় দেশের জাতীয় আবহাওয়া ও জলবিদ্যা বিভাগ, এ বিষয়ে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে; যার কারণে গত কয়েক বছর ধরে অনেক জীবন বাঁচাতে সক্ষম হয়েছে।

তিনি বলেন, “তাপপ্রবাহের সঙ্গে যুক্ত স্বাস্থ্য বিষয়ে নেয়া কর্ম পরিকল্পনার উপর অনেক কাজ হয়েছে। বিশেষ করে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী এবং ঝুকিপূর্ণ শহুরে এলাকায়, যেখানে তাপের প্রভাব অধিক প্রবল হতে থাকে, সেখানকার অধিবাসিদের রক্ষা করার জন্য পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।” তিনি আরো বলেন, “আমরা আশা করছি, চলমান তাপদাহে মৃত্যুর হার সীমিত থাকবে।”

নুলিস বলেছেন, “পাকিস্তানের ব্যাপক অঞ্চলে, বছরের এই সময়ে দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চাইতে পাঁচ থেকে আট ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি অনুভূত হচ্ছে।” তিনি বলেন, এবার পাকিস্তানের পার্বত্য অঞ্চল, গিলগিট-বালতিস্তান এবং খাইবার পাখতুনখোয়ায় তীব্র তাপদাহ মানুষের জন্যে অনেকটা শাস্তির মতো হয়ে উঠবে।

“পাকিস্তান আবহাওয়া বিভাগও সতর্ক করছে যে, অস্বাভাবিক এই তাপদাহের ফলে, তুষার এবং বরফ গলার ঝুঁকি বাড়বে। আর এর ফলে, হিমবাহী হ্রদের বিষ্ফোরণে, আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে। আর এগুলি স্পষ্টতই খুবই মারাত্মক বিপদের লক্ষণ।”

জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত আন্তঃসরকার প্যানেল, তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, এই শতাব্দীতে দক্ষিণ এশিয়ায় তাপপ্রবাহ এবং আর্দ্রতা জনিত তাপদাহ আরও তীব্র এবং ঘন ঘন দেখা দিবে।

সূত্র: ভয়েস অব আমেরিকা

বৈশাখী নিউজ/ জেপা