পারিবারিক ঐক্যের আভাস সৌদি যুবরাজের

সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে সৌদি রাজপরিবারের বেশিরভাগ সদস্যকে একসাথে দেখা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একে সৌদি রাজ শাসনের পারিবারিক ঐক্য হিসেবে দেখছেন। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানের ক্ষমতার ভিত্তি তৈরি করতে পারবারিক দন্দ দেখা দিয়েছিল। ক্ষমতার ভিত্তি তৈরি করার জন্য বহু বছর অতিবাহিত করেছেন তিনি। খবর রয়টার্স।

সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মাদ বিন সালমান রাজকীয় উত্তরাধিকার হিসাবে পারিবারিক ঐক্যের ইঙ্গিত দিয়েছেন তার সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে। তিনি বহু বছর ধরে পারিবারিক ঐক্যের জন্য কাজ করেছেন। তিনি পরিবারের বেশিরভাগ সদস্য নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নতুন শাসককে সংবর্ধনা জানাতে যান।

প্রিন্স আহমেদ বিন আব্দুল আজিজের বড় ছেলে প্রিন্স আব্দুল আজিজ বিন আহমেদ যাকে সৌদি বাদশাহ আটক করেছিলেন তাকেও দেখা গিয়েছে। তার নাম সৌদি রাষ্ট্রীয় মিডিয়ার ক্রাউন প্রিন্স এবং উত্তরাধিকারী মোহাম্মদ বিন সালমানের সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নতুন শাসকের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসা প্রতিনিধিদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। যদিও রাজপরিবারে তার কোনো অফিসিয়াল পদ নেই।

সৌদি রাজপরিবারের তিন সদস্যকে অভ্যুত্থান পরিকল্পনার অভিযোগে আটক করা হয়েছিল। তাদের একজন বর্তমান রাজা সালমানের ভাই প্রিন্স আহমেদ বিন আবদুল আজিজ আল-সৌদ। আরেক জন রাজার ভাইয়ের ছেলে প্রিন্স মোহাম্মদ বিন নায়েফ। এই দুইজনকে একসময় দেশটির সিংহাসনের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করা হতো৷ তারা বর্তমান রাজা এবং যুবরাজকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রে অভিযুক্ত হয়েছেন সৌদি রাজ আদালতে৷

এমবিএস নামে পরিচিত, যুবরাজ মোহাম্মদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে যাওয়া বন্ধ রেখেছিলেন যতক্ষণ না তার বাবা রাজা সালমান (৮৬) এক সপ্তাহের বেশি থাকার পরে হাসপাতাল ত্যাগ করেন। যা উত্তরাধিকারের বিষয়ে সৌদি পর্যবেক্ষকদের এবং বিশ্লেষকদের মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করেছিল।

সৌদি রাজপরিবারের জটিল ক্ষমতার কাঠামোর মধ্যে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের কোণঠাসা করে বাদশাহর ঠিক পরে শীর্ষ স্থানে পৌঁছানোর মতো অসাধ্যসাধন করেছেন ‘এমবিএস’৷ শুধু তাই নয়, এতকাল মনোনীত ‘ক্রাউন প্রিন্স’ মহম্মদ বিন নায়েফ (বামে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও উপাধি খুইয়েও তাঁর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছেন৷

অনুষ্ঠানে যুবরাজ মোহাম্মদের পাশে যুবরাজ আহমেদের ছেলে বসে ছিলেন। যা স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক জনমতের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা দেয়। বিশেষ করে উত্তরাধিকারের একটি বার্তা এখানে স্পষ্ট।

যুক্তরাষ্ট্রের রাইস ইউনিভার্সিটির বেকার ইনস্টিটিউটের একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ক্রিস্টিয়ান কোটস উলরিচসেন বলেন, প্রতিনিধিদলটি যুবরাজ মোহাম্মদের নেতৃত্বে একটি সতর্ক ভারসাম্য বজায় রেখেছিল।

তিনি আরও বলেন, এই সফরটি মূলত রাজ পরিবারের ঐক্য প্রদর্শনের জন্যই বিশেষ ভাবে সাজানো হয়েছে। বিশেষ করে এতদিন যুবরাজ আহমেদ এবং মোহাম্মদ বিন নায়েফকে আটকের জন্য রাজপরিবারে ভাঙ্গন ধরেছে বলে ধারণা করা হচ্ছিল।

১৯৩২ সালের মাঝে, সব প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে দেন ইবনে সৌদ। সে বছর তিনি প্রতিষ্ঠা করলেন কিংডম অফ সৌদি অ্যারাবিয়া, এটিই হলো বর্তমান সৌদি আরব। ১৯৫৩ সালে, ইবনে সৌদ মারা যান। তিনি এখন সৌদি আরবের ‘প্রতিষ্ঠাতা’ হিসেবে পরিচিত।

তার মৃত্যুর পর পুত্র সৌদ বিন আব্দুল আজিজ সিংহাসনে আরোহণ করেন। ১৯৬৪ সালে, গ্র্যান্ড মুফতির নির্দেশে তাঁকে সিংহাসন ছেড়ে দিতে হয় কিং ফয়সালের কাছে। কিন্তু ১৯৭৫ সালে, ভাগ্নে ফয়সাল ইবনে মুসাইদ এর হাতে নিহত হন তিনি। এরপর ক্ষমতায় আসে কিং খালিদ। তার মৃত্যুর পর ক্ষমতায় আসে কিং ফাহাদ। ২০১৫ সালে, কিং ফাহাদের মৃত্যুর পর রাজা হন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ।

বৈশাখী নিউজ/ এপি