যুদ্ধকালে ৯ হাজার ৮০০ কোটি ডলার তেল রপ্তানি থেকে আয় রাশিয়ার

ইউক্রেন আগ্রাসনের পর প্রথম ১০০ দিনে বিভিন্ন দেশে জ্বালানি তেল ও গ্যাস রপ্তানি করে রাশিয়া ৯ হাজার ৮০০ কোটি ডলার আয় করেছে। এ তেল ও গ্যাসের সবচেয়ে বড় ক্রেতা ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশ। নতুন এক গবেষণার বরাত দিয়ে আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

সোমবার ফিনল্যান্ডভিত্তিক সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার (সিআরইএ) কর্তৃক প্রকাশিত প্রতিবেদনটি এসেছে, যখন রুশ বাহিনী পূর্ব ইউক্রেনের দোনবাস অঞ্চল সম্পূর্ণরূপে দখল করার জন্য তাদের অভিযানে ধীর কিন্তু অবিচল অগ্রগতি অব্যাহত রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইইউ নজিরবিহীন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার সাথে মস্কোকে শাস্তি দেয়ার পাশাপাশি ইউক্রেনকে রাশিয়ার অগ্রগতি প্রতিহত করতে অস্ত্র ও নগদ অর্থ পাঠিয়েছে। কিন্তু কিয়েভ পশ্চিমা দেশগুলোকে মস্কোর সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে আসছে।

যুদ্ধের আগে রাশিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৪০ শতাংশ গ্যাস এবং তার আমদানি করা তেলের ২৭ শতাংশ সরবরাহ করেছিল। এ মাসের শুরুর দিকে ব্লকটি বেশিরভাগ রাশিয়ান তেল আমদানি বন্ধ করতে সম্মত হয় এবং এ বছর গ্যাসের চালান দুই-তৃতীয়াংশ হ্রাস করার লক্ষ্য স্থির করে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে রাশিয়া। শুরুর দিকে দেশটির রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে ব্যাপক গোলা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে থাকে রুশ বাহিনী। পরে কিয়েভের পাশ থেকে সেনাদের সরিয়ে নিয়ে রাশিয়া ইউক্রেনের দোনবাস অঞ্চলে তাদের সামরিক শক্তি ও হামলা বাড়াতে শুরু করে। ইতোমধ্যে দোনবাসের অধিকাংশ এলাকা ইউক্রেনীয় বাহিনীর হাতছাড়া হয়েছে।

চলমান যুদ্ধে দুই পক্ষেরই সেনাদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। তবে ইউক্রেন বলছে, রুশ হামলায় তাদের বহু বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। জাতিসংঘ জানিয়েছে, যুদ্ধের কারণে ইতোমধ্যে ইউক্রেন ছেড়ে অন্য দেশে আশ্রয় নিয়েছেন অর্ধকোটিরও বেশি মানুষ; অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন আরও লাখ লাখ মানুষ।

ইতোমধ্যে ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি শহরের নিয়ন্ত্রণ রুশ বাহিনীর হাতে চলে গেছে। এরমধ্যে বন্দরনগরী মারিউপোল অন্যতম। এ শহরটির নিয়ন্ত্রণ ইউক্রেনের হাতছাড়া হওয়াকে যুদ্ধে দেশটির বড় ধরনের হার হিসেবে দেখা হচ্ছে। শহরটিতে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্টিল কারখানা। মারিউপোল দখলের পর প্রায় এক হাজার ইউক্রেনীয় সেনাকে আটক করে রাশিয়া।

বৈশাখী নিউজ/ বিসি