সরকারের নির্দেশে ড. কামালের গাড়িবহরে হামলা : রিজভী

মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ থেকে ফেরার পথে ড. কামাল হোসেনের গাড়িতে সরকারের নির্দেশে হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ।

হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আপনারা জানেন যে, বেগম খালেদা জিয়াকে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় ফরমায়েসী রায়ের মাধ্যমে সাজা দিয়ে এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কোনো দাবি না মেনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আরেকবার ২০১৪ সালের মতো জাতির সাথে প্রতারণাপূর্ণ আরেকটি প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে তারা ক্ষমতার মসনদে থেকে যাবার পাঁয়তারা করছে।’

দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিজভী।

তিনি বলেন, ‘আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার তৃতীয় কোনো শক্তির ষড়যন্ত্র বলে তার বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন। হঠাৎ তার এই বক্তব্য গভীর সন্দেহজনক ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। সিইসি নিরপেক্ষ ও সহিংসতামুক্ত নির্বাচন চাইলে সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে মাঠে নামাতে পারতেন, কিন্তু নামাননি। সরকারের নির্দেশে সেনাবাহিনীকে দর্শক হিসেবে রাখারই চেষ্টা চালাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। পুলিশ ও প্রশাসন ইসির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। পুলিশ ভোটের মাঠে এখন আওয়ামী লীগের লেঠেল বাহিনীর রুদ্রমূর্তিতে অবতীর্ণ হয়েছে। তাহলে কেন এই অকল্পনীয় সহিংসতা ও পাইকারি গ্রেফতারের দায় সিইসি নিজে না নিয়ে এখন তৃতীয় শক্তির ষড়যন্ত্রের কথা বলছেন, তা রহস্যজনক দুরভিসন্ধি।’

রিজভী আরো বলেন,‘ মানুষকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার ব্যর্থ পরিকল্পনায় তারা বেসামাল হয়ে পড়েছে। এমন কোনো গভীর চক্রান্তে আওয়ামী সরকারই মেতে আছে, যা তারা নিজের মুখে না বলে সিইসির মুখ দিয়ে বলাচ্ছে। আওয়ামী অবৈধ সরকারের বশংবদ প্রধান নির্বাচন কমিশনার ৫ জানুয়ারির চেতনাকে ধারণ করেই আসন্ন নির্বাচন নিয়ে নোংরা নীল নকশা করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। গণমানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেয়ার একটি ষড়যন্ত্রমূলক নির্বাচনেরই তিনি আয়োজন করছেন। এজন্য হঠাৎ করে তিনি তৃতীয় শক্তির ষড়যন্ত্রের কথা বলছেন। তার এই বক্তব্য অশুভ ইঙ্গিতবাহী। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে জনদৃষ্টিকে সরানোর জন্যই তার এই বক্তব্য রহস্যঘেরা কুটিল চক্রান্তের আভাস মাত্র।’