করোনা ছড়িয়েছে ৪১ জেলায় , ঢাকায় আক্রান্ত ৫১০

করোনাভাইরাসজনিত কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরো চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ৫০ জনের মৃত্যু হলো। এ ছাড়া নতুন করে আরো ২১৯ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে মোট এক হাজার ২৩১ জন করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া রাজধানী ঢাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৭ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে ঢাকায় ৫১০ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাজধানীর মহাখালী থেকে অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপনকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘এত দিন আমরা জানতাম ঢাকায় সর্বোচ্চ সংখ্যক করোনায় আক্রান্ত রোগী রয়েছে। কিন্তু এখন নারায়ণগঞ্জের পরে দিনাজপুরে রোগী পাওয়া যাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দিনাজপুরে সাতজন করোনা রোগী পাওয়া গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে সবাই ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ ফেরত।

ব্রিফিংয়ে মহাপরিচালক বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় চারজন মৃত্যুবরণ করেছেন। এর মধ্যে পুরুষ তিনজন ও নারী একজন। এ ছাড়া এর মধ্যে ৭০ বছরের ওপরে দুজন, ৩৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে একজন ও ৫০ বছরের ওপরে একজন চিকিৎসক মারা গেছেন।’

ব্রিফিংয়ে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ৭৪০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ১৪ হাজার ৮৬৮ জনের করোনাভাইরাসের পরীক্ষা করা হয়েছে। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সাতজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। এ নিয়ে মোট ৪৯ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেলেন।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও রোগ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) দেওয়া তথ্যানুযায়ী সবচেয়ে বেশি ১১৪ জন কোভিড-১৯ সংক্রমিত ব্যক্তি পাওয়া গেছে পুরান ঢাকায়। এরপরেই রয়েছে মিরপুর। পুরান ঢাকার ওয়ারী এলাকায় ২৫ জন, লালবাগে ১৮ জন, হাজারীবাগে আটজন, বংশালে সাতজন, সূত্রাপুরে ছয়জন, সোয়ারীঘাটে তিনজন, বাবুবাজারে ১১ জন এবং চকবাজারে ছয়জনের মধ্যে কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।

এছাড়া আজিমপুরে ছয়জন, জেলগেট এলাকায় দুজন, ইসলামপুরে দুজন, নারিন্দায় দুজন, চাংখারপুলে দুজন, কোতোয়ালিতে দুজন, সূত্রাপুরে দুজন ও লক্ষ্মীবাজারে দুজনের মধ্যে কোভিড-১৯ সংক্রমণ পাওয়া গেছে। এর বাইরে উর্দুরোড, বুয়েট আবাসিক এলাকা, কদমতলী, মিটফোর্ড এলাকা, নবাবপুর, ঢাকেশ্বরী, নওয়াবপুর, আরমানিটোলা, ধোলাইখাল ও দয়াগঞ্জে একজন করে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়েছেন।

এদিকে রাজধানীর বৃহত্তর মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় এখন পর্যন্ত ৭২ জনের মধ্যে কোভিড-১৯ সংক্রমণ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে টোলারবাগে ১৯ জন, মিরপুর- ১১ এলাকায় ১১ জন, মিরপুর-১ এলাকায় ছয়জন, মিরপুর-১৪ এলাকায় পাঁচজন, মিরপুর-১০ এলাকায় দশজন এবং মিরপুর-১২ এলাকায় ১০ জনের মধ্যে কোভিড-১৯ সংক্রমণ পাওয়া গেছে। এছাড়া মিরপুর ৬, পীরেরবাগ, শাহআলীবাগ ও মিরপুর-১৩ এলাকায় দুজন করে কোভিড-১৯ সংক্রমিত পাওয়া গেছে। এছাড়াও কল্যাণপুর, কাজীপাড়া, জুরাইন এবং মানিকদিতে একজন করে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে।

বাসাবো এলাকায় ১৪ জনের মধ্যে কোভিড-১৯ আক্রান্ত পাওয়া গেছে। এছাড়া যাত্রাবাড়ীতে ১৯ জন, গেন্ডারিয়ায় ১২ জন, মীরহাজারীবাগে দুজন, দয়াগঞ্জে একজন, বানিয়ানগরে একজন, গুলিস্তানে দুজন, মাতুয়াইলে একজন, মুগদায় একজন, সায়েদাবাদ এলাকায় একজন, শ্যামপুর এলাকায় একজন, খিলগাঁও একজন, সবুজবাগ এলাকায় দুজন, মাতুয়াইল এলাকায় একজন ও শনির আখড়ায় একজন কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তি পাওয়া গেছে।

শান্তিনগর এলাকায় ছয়জন, মগবাজার এলাকায় ১০ জন, বেইলি রোড এলাকায় তিনজনের মধ্যে কোভিড-১৯ সংক্রমণ পাওয়া গেছে। এ ছাড়াও শাহবাগে তিনজন, মালিবাগে চারজন, পুরানা পল্টন, শান্তিনগর ও রাজারবাগ এলাকায় ছয়জন ব্যক্তির মাঝে কোভিড-১৯ সংক্রমণ পাওয়া গেছে। এ ছাড়াও মতিঝিলে একজন, ইস্কাটনে একজন, শান্তিবাগে একজন ও সিদ্ধেশ্বরী এলাকায় একজন কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়েছেন।

এদিকে ধানমন্ডিতে ১৬ জন, গ্রিনরোডে ১০জন জিগাতলা এলাকায় চারজন ও হাতিরপুল এলাকায় তিনজনের মধ্যে কোভিড-১৯ সংক্রমণ পাওয়া গেছে। এ ছাড়াও ফার্মগেটে একজন, বেগুনবাড়িতে একজন, রায়েরবাজারে একজন ও সেন্ট্রাল রোডে একজন কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়েছেন।

মোহাম্মদপুরে ১৭ জন, আদাবরে পাঁচজন, আগারগাঁওয়ে দুজন ও বসিলায় একজনের মধ্যে কোভিড-১৯ সংক্রমণ পাওয়া গেছে। বনানীতে আটজন ও গুলশানে ছয়জনের মধ্যে ভাইরাসটি সংক্রমিত হয়েছে। এছাড়াও বাড্ডা এলাকায় ছয়জন, রামপুরায় দুজন, ভাটারায় একজন ও হাতিরঝিলে একজন ও বেড়াইদে একজনের মধ্যে কোভিড-১৯ সংক্রমণ পাওয়া গেছে।

উত্তরায় ১৭ জন, মহাখালীতে নয়জন ও তেজগাঁও এলাকায় ১৫জনের মধ্যে কোভিড-১৯ সংক্রমণ পাওয়া গেছে। এছাড়াও নিকুঞ্জ এলাকায় একজন এবং আশকোনায় একজনের মধ্যে কোভিড-১৯ সংক্রমণ পাওয়া গেছে। বসুন্ধরা আবাসিক আলাকায় চারজন, কুড়িলে একজন ও বারিধারা এলাকার একজন ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হয়েছে। এছাড়াও কামরাঙ্গীরচর এলাকায় দুজনের মধ্যে কোভিড-১৯ সংক্রমণ পাওয়া গেছে। আর শ্যামলী ও রায়েরবাগ এলাকায় একজন করে কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তিও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে আইইডিসিআর।

বৈশাখী নিউজইডি