পাকিস্তানে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা

পাকিস্তানে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। গত বুধবার সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৬ হাজার ২৫০ ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুসারে, পাকিস্তানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৩৪ জনের শরীরে নতুন করে করোনার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। আর প্রাণ হারিয়েছেন ১১ জন। ফলে মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে।

এমনিতেই পাকিস্তানে দারিদ্র, ক্ষুধা, অর্থনীতিক মন্দার মতো সমস্যা চরমে। তার মধ্যে ক্রমবর্ধমান করোনা সংক্রমণের ঘটনা তাদেরকে আরও ‘কঠিন পরিস্থিতি’র মধ্যে ফেলে দিয়েছে বলে স্বীকার করেছে ইসলামাবাদ।

বুধবার ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আসাদ উমর বলেন, ‘আমরা খুব কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। সংক্রমণের হারে রাশ টানা সরকারের মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে নিম্নআয়ের লোকজন যাতে ক্ষুধার্ত না থাকেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। এই দুই বিষয়ের মধ্যে ভারসাম্যের সূত্র সন্ধান সরকারের কাছে মূল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

উল্লেখ্য, সংক্রমণের শৃঙ্খলা ভাঙতে পাকিস্তানে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউনের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। মঙ্গলবার একথা ঘোষণা করেন ইমরান খান। যদিও স্তব্ধ অর্থনীতিতে গতি সঞ্চারে বিভিন্ন শিল্প সংস্থায় কাজ চালু করার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

করোনা টেস্টিং কিটসের আকাল দেখা দিয়েছে পাকিস্তানজুড়ে। যে কারণে বিদেশে বসবাসকারী নিজেদের নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনছে না ইমরান খান সরকার। সংবাদ সম্মেলনে একথা স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মোঈদ ইউসুফ বলেছেন, বিদেশে আটকে পড়া নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনা হলে তাদের পরীক্ষা করতে গিয়েই টেস্টিং কিটস ফুরিয়ে যাবে। তখন স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার উপরে কোপ পড়তে বাধ্য। তবে ভারতে বসবাসকারী পাকিস্তানের নাগরিকদের বৃহস্পতিবার ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে ইমরানের এই উপদেষ্টা জানান।

পাকিস্তানের করোনা আক্রান্ত প্রদেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা পাঞ্জাবের। শুধুমাত্র এখানেই দেশের মধ্যে প্রায় অর্ধেক রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। সরকারি মতে সেই সংখ্যাটা ৩০১৬। এছাড়া সিদ্ধে ১৬৬৮ জন, খাইবার পাখতুনখোয়াতে ৮৬৫ জন, বালোচিস্তানে ২৩৪ জন, ইসলামাবাদে ১৪০ জন এই প্রাণঘাতী ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আর সারাদেশে এখনও মৃত্যু হয়েছে ১০৭ জনের।

সংক্রমণ রোধ করার পাশাপাশি দারিদ্র, খাদ্য এবং অর্থনৈতিক শ্লথতার মতো সমস্যার মোকাবিলা করা এই মুহূর্তে ইমরান খান সরকারের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।

সূত্র : এই সময়।

বৈশাখী নিউজএপি