ঢাবি ছাত্রলীগের হল কমিটি দিতে জয়-লেখককে আল্টিমেটাম

ঢাবি প্রতিনিধি: জানুয়ারির মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের হল কমিটি না দিলে ধর্মঘট করে সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিভিন্ন হলের পদপ্রার্থীরা।

হল কমিটি নিয়ে শীর্ষ দুই নেতার গড়িমসির প্রতিবাদ জানিয়ে বুধবার রাত ১২ টার দিকে মগবাজার ইস্কাটন রোডে লেখক ভট্টাচার্য‌ের বাসার সামনে গিয়ে বিভিন্ন হলের পদপ্রার্থীরা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ দেখায়। পরে বিষয়টি নিয়ে জয়- লেখক তাদেরকে টিএসসিতে এসে কথা বলে সমাধানের আশ্বাস দেয়।

দুই ঘণ্টারও বেশি সময় টিএসসিতে ছাত্রলীগের এই দুই নেতার সঙ্গে বাক-বিতণ্ডা শেষে জানুয়ারির মধ্যেই হল কমিটি ঘোষণার আল্টিমেটাম দেন পদপ্রার্থীরা।

প্রয়োজনে সম্মেলন ছাড়াই কমিটি ঘোষণার প্রস্তাব করেন তারা। অন্যথায় ধর্মঘট করে সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ার দেন পদপ্রার্থীরা।

এদিকে বৃহস্পতিবার নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে ছাত্রলীগের প্রচারণা কর্মসূচি থাকায় পরের দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ চার নেতা বসে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আশ্বাস দেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের এক পদপ্রার্থী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি আবাসিক হল শাখা ছাত্রলীগের কমিটি হচ্ছে না পাঁচ বছর ধরে। দুই দফায় কমিটি গঠনের জন্য হল সম্মেলনের তারিখ ঠিক করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা পরিণতি পায়নি। ডিসেম্বরে হল সম্মেলনের ঘোষণা দিয়ে শীর্ষ দুই নেতার সদিচ্ছার অভাবে তা হয়নি।

” ক্যান্ডিডেটরা তাদের পেছনে দীর্ঘদিন ধরে প্রটোকল দিতে দিতে এখন হতাশ। নিরুপায় হয়ে আজ লেখক ভট্টাচার্যের বাসার নিচে গিয়ে সব হলের ক্যান্ডডেট অবস্থা নিয়েছে। পরে আমাদেরকে টিএসসিতে আসার কথা বলে কেন্দ্রীয় দুই নেতা। টিএসসিতে এসেও তারা আমাদের কোনো সমাধানের কথা জানাতে পারেনি। একপর্যায় পরশু দিন শীর্ষ চার নেতা বসে সমাধান দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে জয়-লেখক চলে যান।”

কবি জসীম উদ্দিন হলের আরেক পদপ্রার্থী বলেন, প্রটোকল ও পদ হারানোর ভয় শীর্ষ দুই নেতা ঢাবির হল কমিটি দিচ্ছে না। বার বার আশ্বাস দিয়ে পিছিয়ে যাচ্ছে। ছাত্রলীগ করে আমরা আজ হতাশ। শীর্ষ দুই নেতার স্বেচ্ছাচারীতায় আমাদের ক্যারিয়ার শেষ।

” আর কোনো তামাশা আমরা মানব না। জানুয়ারির মধ্য হল কমিটি না দিলে আমরা ধর্মঘটে যাব, তাদেরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করব।”

এদিকে হল কমিটি নিয়ে জয়-লেখকের অসহযোগিতায় বেশ কয়েক মাস ধরে হতাশাজনক লেখা দিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাস দিচ্ছেন ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস।

সর্বশেষ এক ফেসবুক কমেন্টে সনজিত লেখেন, এ মাসে হল কমিটি না দিলে তিনি নিজেও আন্দোলনে নামবেন।

এ বিষয়ে ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহযোগিতা ছাড়া হল কমিটি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তারা আমাদেরকে বলেছে, এ মাসেই হল কমিটি দেওয়া হবে।”

সার্বিক বিষয়ে জানতে সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে একাধিকবার ফোন করলেও তারা ফোন রিসিভ করেনি।