মমতার বাড়িতে অনুপ্রবেশ: হাফিজুলের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা প্রতিবেদন

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে খুন করতে বা বড়সড় নাশকতার ছক কষে তার কালীঘাটের বাড়িতে লুকিয়ে ছিলেন হাফিজুল মোল্লা? আদালতে পেশ করা স্পেশাল ইন্টেস্টিগেশন টিমের প্রতিবেদন ঘিরে এমন প্রশ্নই তৈরি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে।

সোমবার হাফিজুলের আইনজীবী বিকাশ গুচ্ছাইত গোয়েন্দা প্রতিবেদনটি আদালতে পেশ হওয়ার বিষয়টি জানিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে অনুপ্রবেশ কাণ্ডে অভিযুক্ত হাফিজুল সম্পর্কে তদন্ত করতে গিয়েই ওই তদন্ত টিম গঠন করা হয়। সম্প্রতি গভীর রাতে জেড প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তা এড়িয়ে কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে লোহার রড নিয়ে প্রবেশ করেন ওই যুবক। সেখানে লুকিয়ে ছিলেন প্রায় সাত ঘণ্টা।

আদালতে পেশ করা সিটের গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাফিজুল কাণ্ডে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা অনেকটাই স্পষ্ট করেছে গোয়েন্দারা। গোয়েন্দাদের দাবি, গেল বছর দুর্গাপূজার সময় অবৈধভাবে ভারত-বাংলাদেশের ভোমরা সীমান্তের কাছে ভারতের টাকি সীমান্ত এলাকা থেকে ইছামতি পেরিয়ে বাংলাদেশে যান হাফিজুল।

সেখানে বেশ কিছুদিন থেকে ফিরে আসেন। তবে ঠিক কি কারণে বাংলাদেশে অবৈধ উপায়ে প্রবেশ করেছিলেন হাফিজুল তা স্পষ্ট বলেননি গোয়েন্দারা।

গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাফিজুলকে গ্রেপ্তারের পর মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির আশপাশে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় তার ফোন, যাতে অতি সম্প্রতি ব্যবহার করা হয়েছিল প্রায় ১১টি সিম কার্ড। সিমগুলো ব্যবহার করে ক্রমাগত ফোন করা হয়েছিল ভারতের বিহার – ঝাড়খণ্ড এবং বাংলাদেশেও।

গোয়েন্দাদের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে অনুপ্রবেশের আগে বেশ কয়েকদিন গোটা এলাকা ঘুরে দেখেন হাফিজুল। ১০ দিনে প্রায় ৭ থেকে ৮ বার কালীঘাটের ওই এলাকায় রেকি চালান। পথঘাট, মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধি সহ একাধিক বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে শিশুদের চকলেট কোল্ড ড্রিংস খাওয়াতেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর পাড়ায় ক্লাবের ছেলেদের সঙ্গে ফুটবল খেলে সখ্যতা বাড়ান।

গোয়েন্দারা আরও দাবি করেন, এভাবেই সুযোগ তৈরি করে এবং তার সদ্ব্যবহার করে মোবাইল ফোনে বিভিন্ন দিক থেকে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির ছবি তোলেন তিনি। সেই ছবিগুলিও পাঠানো হয়েছে বিহার ঝাড়খন্ড এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন নম্বরে। ইতিমধ্যেই উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনটি সেন্ট্রাল ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি বা সিএফএসএলে পাঠানো হয়েছে।

তবে হাফিজুলের উদ্দেশ্য কী ছিল তা পরিষ্কার করা হয়নি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে। সিটের পেশ করা প্রতিবেদন অনুযায়ী গোয়েন্দারা এর সঙ্গে আরও অনেকের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অনুমান করছেন।

তারা জানিয়েছেন, রীতিমতো পরিকল্পনা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে অনুপ্রবেশ করেছিলেন হাফিজুল। তার অনুপ্রবেশের পেছনে যে নাশকতার পরিকল্পনা ছিল সে ব্যাপারে একপ্রকার নিশ্চিত গোয়েন্দারা। যার ফলে তার বিরুদ্ধে নতুন করে ১২০ বি ধারা যোগ করা হয়েছে।

যদিও পরিবারের দাবি, হাফিজুল মানসিক ভারসাম্যহীন। গত ৫-৬ মাসের বেশি সময় ধরে হাফিজুলের চিকিৎসা চলছিল বলে জানান তার স্ত্রী জেস্মিনারা বিবি । তার বাবাও দাবি করেন, হাফিজুল পাগল হয়ে গিয়েছিল। তার পক্ষে এমন কাজ সম্ভব নয়।

এদিকে হাফিজুল কাণ্ডের পর মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা বিবেক সহায়কে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবুও বিতর্ক থামছে না । সোমবার কলকাতার আলিপুর আদালতে তাকে পেশ করা হলে ফের তাকে সাত দিনের সিআইডি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন বিচারক।

বিরোধীদের অবশ্য অভিযোগ, সবটাই সাজানো ঘটনা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মিডিয়া কভারেজ দেওয়ার জন্য এই ঘটনা। আবার কেউ কেউ অভিযোগ করছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর যদি নিরাপত্তা না থাকে তাহলে রাজ্যের মানুষ কতটা নিরাপদ?

বৈশাখী নিউজ/ বিসি