গোতাবায়া পালানোর পর কলম্বোয় বিজয় উদযাপন

বিক্ষোভের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে একটি সামরিক বিমানে করে মালদ্বীপে পাড়ি জমান তিনি। এরপরই বিজয় উদযাপনে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর রাস্তায় নেমে এসেছে সাধারণ জনগণ।

বুধবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনের মাধ্যমে এই তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে জানা যায়, প্রেসিডেন্ট পালানোর খবর পাওয়ার পর ভোর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কলম্বোর কেন্দ্রস্থলে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমেছেন। অনেকেই শহরের প্রধান প্রতিবাদস্থল বলে পরিচিত গল ফেস গ্রিন-এ জমায়েত হয়েছেন।

বিবিসি বলছে, সেখানে তৈরি করা একটি অস্থায়ী মঞ্চে সাধারণ মানুষ উত্তপ্ত বক্তৃতা শুনছেন এবং এই ধারণা উপলব্ধি করছেন যে, সরকার এবং নেতারা তাদের সঙ্গে গভীরভাবে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।

এসব বক্তৃতার সঙ্গে সঙ্গে এসব মানুষ সিংহলী ভাষায় ‘ভিক্টরি টু দ্য স্ট্র্যাগল’ বা ‘সংগ্রামে বিজয়’ স্লোগান দিচ্ছেন।

এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে একটি সামরিক বিমানে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে মালদ্বীপ পালিয়ে যান বলে জানান দেশটির অভিবাসন কর্মকর্তারা।

বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ৭৩ বছর বয়সী গোতাবায়া, তার স্ত্রী ও এক দেহরক্ষীসহ চার যাত্রী নিয়ে সামরিক বিমান অ্যান্তোনভ–৩২ মঙ্গলবার মধ্যরাতে বন্দরনায়েক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মালদ্বীপের উদ্দেশে যাত্রা করে।

এর আগে বিমানব্ন্দরে অভিবাসন কর্মকর্তাদের বাধার মুখে আকাশপথে বিদেশ পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যাওয়ার পর সমুদ্রপথে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করেন গোতাবায়া। বিমানবন্দরের অভিবাসন কর্মকর্তারা গোতাবায়ার পাসপোর্টে সিল মারতে রাজি না হওয়ায় মঙ্গলবার এই দ্বীপ দেশটি থেকে পালিয়ে যাওয়ার জন্য নৌবাহিনীর টহল নৌযান ব্যবহারের চেষ্টা করেছিলেন তিনি।

দেশটিতে চলমান অস্থিরতা এবং এর জেরে সাধারণ জনগণের ক্ষুব্ধ আন্দোলনের দাবানল আছড়ে পড়েছে প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে ও প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহের বাসভবনে। গত শনিবার দেশটির শীর্ষ এই দুই নির্বাহীর বাসভবনের দখল নেন বিক্ষোভকারীরা, এখনও তারা সেখানেই অবস্থান করছেন।

বৈশাখী নিউজ/ জেপা