সাচিপের সম্মেলন: ২৯ বছরে ১৯ বছরই নেতৃত্বে ইকবাল আর্সেনাল

নিজস্ব প্রতিবেদক: ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অংগসংগঠন চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদ (স্বাচিপ)-এর সম্মেলনকে ঘিরে নতুন নেতৃত্বের আশায় নেতাকর্মীরা।
২৫ নভেম্বর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সুবহান গোলাপ।
স্বাচিপ নেতারা জানান, বর্তমানে সারাদেশে স্বাচিপের সদস্য সংখ্যা ১৫ হাজারেরও বেশি। সংগঠনটির প্রতি ৫ বছর পর পর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ২০১৫ সালের ১৩ নভেম্বর স্বাচিপের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হলেও ওইদিন কমিটি গঠনের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর ওপর ছেড়ে দিয়ে সম্মেলন স্থগিত করা হয়।
পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান সভাপতি ও অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত হন। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুসারে পাঁচ বছর পর অর্থাৎ ২০১৮ সালের নভেম্বরে পরবর্তী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। মহামারি করোনার কারণে গোটা বিশ্ব থমকে যাওয়ার উদ্ভুত পরিস্থিতির কারণে সময় মতো স্বাচিপের সম্মেলনের আয়োজন করা সম্ভব হয়নি।
১৯৯৩ সালে ২৪ ডিসেম্বর ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন কে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করে সাচিপের প্রতিষ্ঠা হয়।
এর পর ২০০৩ সালে সম্মেলনের মাধ্যে ডা. ইকবাল আর্সেনালকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করা হয়।
ইতোমধ্যে সম্মেলন ঘিরে চিকিৎসকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। স্বাচিপের শীর্ষ পদে স্থান পেতে চিকিৎসকদের অনেকেই প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ও দলীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা করে দোয়া চাইছেন।
স্বাচিপের সিনিয়র কয়েকজন নেতা বলেন, ২০২৪ সালের শুরুতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের আগে স্বাচিপের নেতৃত্বে পরীক্ষিত নেতাদের পদ দিতে হবে। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দল ক্ষমতায় থাকায় অনেক সুযোগসন্ধানী কথিত স্বাচিপ নেতা তৈরি হয়েছে। স্বাচিপের দুর্দিনে যাদের দেখা যায়নি এখন তাদের অনেকেই বড় নেতা সাজছেন! এ কারণে এবারও দলীয় প্রধানের কাছ থেকেই স্বাচিপের শীর্ষ নেতা অর্থাৎ সভাপতি ও মহাসচিবসহ গুরুত্বপূর্ণ পদের ঘোষণা আসতে পারে।
স্বাচিপের সভাপতি ডা. এম ইকবাল আর্সলান ছাড়াও সভাপতি পদে আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা ও বিএসএমএমইউয়ের সাবেক উপাচার্য প্রখ্যাত নিউরোসার্জন অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া, ডা. জামাল উদ্দিন চৌধুরী, কোষাধক্ষ্য অবসরপূর্ব ছুটিতে যাওয়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. ইউসুফ ফকিরের নাম শোনা যাচ্ছে।
মহাসচিব পদে বর্তমান মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ ছাড়াও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া, ডা. জুলফিকার আলী লেলিন, সদস্য ডা. তারিক মেহেদী পারভেজ, ডা. আবু রায়হানের নাম শুনা যাচ্ছে।
স্বাচিপের আসন্ন সম্মেলন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বাচিপ সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান বলেন, “স্বাচিপের সম্মেলন আরও আগে হওয়ার কথা থাকলেও করোনার কারণে তা সম্ভব হয়নি।২৫ নভেম্বর এই হতে যাচ্ছে।”
আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতানা জানান, নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা হয় সংগঠনকে গতিশীল করতে। সেই হিসেবে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তন আনতে পারেন।




