পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রবাসী খুন, মূল আসামি গ্রেপ্তার

পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ওমান প্রবাসী যুবক মাহবুব হোসেন খুন হন বলে জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সাদ্দাম হোসেন নামে একজন ধরা পড়লে তার কাছ থেকে এমন তথ্য পায় সিআইডি।

চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানার চারতি নোয়াহাট এলাকা থেকে সাদ্দামকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। তার ব্যাপারে বিস্তারিত জানাতে মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তাধর।

রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নিহত মাহবুব হোসেন নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি থানার মেরিপাড়া গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে। করোনাকালে দেশে ফেরার পর থেকেই মাহবুবের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্থানীয় বখাটে সাদ্দাম হোসেনের বিরোধ তৈরি হয়। কিছুদিন আগে একটি মোবাইল ফোন নিয়ে দুইজনের মধ্যে বাগ্ববিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়।

গত মাসে ধন্যপুর এলাকায় মাহবুবকে ফোনে ডেকে নিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে সাদ্দাম। পরে সাদ্দাম এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। ঘটনার দিনই নিহতের ভাই সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে সোনাইমুড়ি থানায় একটি মামলা করেন।

সিআইডি জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর সিআইডি ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তাধরের সার্বিক দিক নির্দেশনায় এলআইসির একটি চৌকস টিম হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি সাদ্দাম হোসেনকে চট্টগ্রামের হাট হাজারী থানাধীন চারতি নোয়াহাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার সাদ্দামের বরাত দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে মুক্তাধর বলেন, নিহত মাহবুবের সাথে সাদ্দামের পূর্ব শত্রুতা ছিল। মাহবুব করোনা আগে ওমানে কর্মরত ছিল। করোনা মহামারী চলাকালীন চাকরি হারিয়ে তিনি দেশে ফিরে আসেন। তখন থেকে মাহবুবের সাথে সাদ্দামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শত্রুতার সৃষ্টি হয়। কিছুদিন আগে একটি মোবাইল ফোন নিয়ে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা এবং হাতাহাতি হয়। এরপর সাদ্দাম মাহবুবকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২৮ নভেম্বর রবিবার সকাল ১০ টার দিকে সাদ্দাম ধন্যপুরে মাহবুবকে ডেকে নিয়ে ধারালো দা দিয়ে মাথায় ও গলাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। পরে তিনি দ্রুত পালিয়ে যায়।

গ্রেপ্তার সাদ্দাম হোসেন লক্ষীপুর জেলার রামগতি থানার চর মেহার গ্রামের মো. হুছি আলম ওরফে ওছি আলমের ছেলে।