যুক্তরাষ্ট্রের কব্জায় যেতেই হচ্ছে অ্যাসাঞ্জকে

উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে আমেরিকায় ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে ব্রিটেনের একটি আদালত। যদিও এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি পটেল নেবেন বলেও আদালত জানিয়েছে।

আদালত জানিয়েছে জুলিয়ানের আইনজীবীরা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ১৪ দিনের মধ্যে নতুন করে আবেদন করতে পারেন।

আমেরিকার নেতৃত্বে ইরাক ও আফগানিস্তানে হওয়া সঙ্ঘাত সংক্রান্ত পাঁচ লক্ষ গোপন সামরিক ফাইল ফাঁস করার অভিযোগ উঠেছিল জুলিয়ানের বিরুদ্ধে। এই কারণে আমেরিকাতে তাকে অপরাধীও ঘোষণা করা হয়। আমেরিকা ফিরলে তার যাবজ্জীবন কারাদন্ড হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।

জুলিয়ানের মামলা এই আদালতে দীর্ঘদিন ধরে চলেছিল। আর এই সিদ্ধান্তের ফলে এই দীর্ঘ চলা মামলায় ইতি পড়তে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।

এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রীতির কাছে আবেদন জানাবেন বলেও জুলিয়েনের আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

জুলিয়ানের আইনি পরামর্শদাতা সংস্থা বার্নবার্গ পিয়ার্স সলিসিটরস গত মাসে এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, জুলিয়ান এর আগে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে হাইকোর্টের কাছে আবেদন জানাননি।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ আটকাতে অ্যাসাঞ্জ যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থও হয়েছিলেন। কিন্তু গত মাসে সুপ্রিম কোর্ট অ্যাসাঞ্জের ওই আবেদন বাতিল করে দেয়। তারপরই ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সংক্ষিপ্ত শুনানি শেষে এই রায় এল।

শুনানিতে বেলমার্শ কারাগার থেকে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে হাজিরা দেন আ্যাসাঞ্জ। একটি জ্যাকেট ও টাই পরে ছিলেন তিনি। এই কারাগারেই গত মাসে অ্যাসাঞ্জ তার দীর্ঘদিনের পার্টনার স্টেলা মরিসকে বিয়ে করেছিলেন। অ্যাসাঞ্জের স্ত্রী মরিস বুধবার আদালতের পাবলিক গ্যালারিতে উপস্থিত হন।

আদালতের ৭ মিনিটের শুনানির পর প্রধান ম্যাজিস্ট্রেট পল গোল্ডস্প্রিং অ্যাসাঞ্জকে প্রত্যর্পণের আদেশ দেন। অ্যাসাঞ্জকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘‘খুব সাধারণ ভাবে বললে, আপনার মামলাটি সিদ্ধান্তের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পাঠাতে আমি দায়বদ্ধ।”

বৈশাখী নিউজ/ ইডি