ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহত বেড়ে ২ হাজার ৫৭১

আপডেট: January 14, 2026 |
inbound96780700298793617
print news

ইরানে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২ হাজার ৫৭১–এ দাঁড়িয়েছে।

নিহতদের মধ্যে ১২টি শিশুও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি’ বুধবার ভোরে হতাহতের এই সর্বশেষ তথ্য প্রকাশ করেছে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের হাতে থাকা তথ্য অনুযায়ী নিহতদের মধ্যে ২ হাজার ৪০৩ জন বিক্ষোভকারী এবং ১৪৭ জন সরকারসংশ্লিষ্ট বাহিনীর সদস্য, যারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন।

এ ছাড়া বিক্ষোভে অংশ না নেওয়া এমন অন্তত ৯ জন বেসামরিক নাগরিকও নিহত হয়েছেন। বিক্ষোভ চলাকালে এখন পর্যন্ত ১৮ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। শুরুতে অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে আন্দোলন শুরু হলেও পরে তা সরাসরি সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, দেশের শত্রুরা এই বিক্ষোভে উসকানি দিচ্ছে।

বিক্ষোভ শুরুর পরপরই ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। প্রায় পাঁচ দিন ধরে দেশটিতে ইন্টারনেট বন্ধ রয়েছে। ফলে বিদেশ থেকে ইরানের ভেতরের পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে এবং হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না।

কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার থেকে আন্তর্জাতিক ফোন সংযোগ আংশিকভাবে চালু করা হয়েছে। তবে এখনো বাইরে থেকে ইরানে ফোন করা যাচ্ছে না। শুধু ইরান থেকে বাইরে ফোন করা সম্ভব হচ্ছে, যদিও সংযোগের মান অত্যন্ত দুর্বল এবং বারবার লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স ইরানের এক সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহে প্রায় দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। ওই কর্মকর্তা বলেছেন, নিহতদের মধ্যে বিক্ষোভকারীদের পাশাপাশি সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এবারের বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা গত কয়েক দশকে ইরানে হওয়া যেকোনো বিক্ষোভ বা রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়কার মৃত্যুসংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে।

ইরানি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, গত বৃহস্পতিবার থেকে টানা কয়েক রাত ধরে চলা বিক্ষোভ তারা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বিক্ষোভ চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন। তাঁদের জানাজায় বহু মানুষ অংশ নিচ্ছেন এবং সেখান থেকেই সরকারের পক্ষে বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এদিকে তেহরান কর্তৃপক্ষ আজ রাজধানীতে বিক্ষোভে নিহত ব্যক্তিদের জন্য গণজানাজা আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের বিক্ষোভকারীদের ‘দেশপ্রেমিক’ বলে অভিহিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, “সাহায্য আসছে।”

গতকাল নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন ট্রাম্প। এমন সময়ে তাঁর এই মন্তব্য এলো, যখন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ধীরে ধীরে স্তিমিত হয়ে আসার খবর প্রকাশিত হচ্ছে।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর