দেশের সার্বভৌমত্ব-অখণ্ডতা রক্ষায় সদা জাগ্রত থাকতে হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেট: January 14, 2026 |
inbound5163035091341584450
print news

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম বিজিবির নবীন সৈনিকদের উদ্দেশে বলেছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষার মহান দায়িত্ব পালনে সদা জাগ্রত থাকতে হবে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাইতুল ইজ্জতে অবস্থিত বিজিবির ঐতিহ্যবাহী প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান ‘বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজের (বিজিটিসিঅ্যান্ডসি) বীর উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে কুচকাওয়াজ ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, শৃঙ্খলা হচ্ছে সৈনিক জীবনের অলংকার। আদেশ ও কর্তব্য পালনে যে কখনো পিছপা হয় না সেই প্রকৃত সৈনিক। সততা, বুদ্ধিমত্তা, নির্ভরযোগ্যতা, আনুগত্য, তেজ ও উদ্দীপনা একটি বাহিনীর শৃঙ্খলা ও পেশাগত দক্ষতার মাপকাঠি।

তিনি বলেন, ২৩০ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই বাহিনী কালের পরিক্রমায় আজ একটি সুসংগঠিত, চৌকষ, সুশৃঙ্খল ও পেশাদার দেশপ্রেমিক বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।

সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দেশের ৪,৪২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত সুরক্ষার মাধ্যমে দেশমাতৃকার অখণ্ডতা রক্ষা ও সীমান্তের নিরাপত্তা বিধানের পাশাপাশি চোরাচালান রোধ, মাদক ও মানবপাচার রোধসহ যেকোনো আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমন, দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দেওয়া এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় বিজিবি অত্যন্ত দক্ষতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে দেশবাসীর আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিজিটিসিএন্ডসি বিগত ৪৪ বছর ধরে বিজিবির রিক্রুটদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে গড়ে তুলছে।

স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত ৭২টি ব্যাচকে সফলভাবে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এই প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা ৭০০–১০০০ জন হলেও ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচে ৩০২৩ জন (পুরুষ ২৯৫০, মহিলা ৭৩) রিক্রুটকে মৌলিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

বর্তমান অন্তবর্তী সরকারের নির্দেশনায় এবং বিজিবি সদর দপ্তরের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলে এই চ্যালেঞ্জিং প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা হয়েছে।

একসঙ্গে ৩ হাজারেরও অধিক রিক্রুটদের প্রশিক্ষণ দিয়ে বিজিটিসিএন্ডসি স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।

অনুষ্ঠানে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

Share Now

এই বিভাগের আরও খবর