ডিজিটাল প্রযুক্তিই হবে আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার মূল শক্তি : টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ডিজিটাল প্রযুক্তিই হবে আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার মূল শক্তি।

চতুর্থ শিল্প-বিপ্লবের সফল দৃষ্টিকোন মানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতেই (আইসিটি) সীমাবদ্ধ থাকা নয়-একথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সব ধরনের শিক্ষার্থীদের বিশেষ করে আইটি শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের সাথে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে দক্ষ ডিজিটাল মানব সম্পদ হিসেবে তৈরি করতে হবে।’

এ লক্ষ্যে, টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ফাইভ-জি নির্ভর ডিজিটাল যন্ত্রপাতির পাশাপাশি প্রযুক্তির গবেষণা, উন্নয়ন ও দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

তিনি সকল স্তরের প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন এবং তার গভীরতা আরো সমৃদ্ধ করতে ‘ডিজিটাল প্রযুক্তি শিল্পগুলোতে’ ইন্টার্নশীপ বাধ্যতামূলক করার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান জানান।

কম্পিউটারে ‘প্রমিত বাংলা-ভাষা’ সংযোজনের অগ্রনায়ক মোস্তাফা জব্বার আজ শনিবার রাজধানীতে নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় ভার্চূয়ালি আয়োজিত কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অনলাইনে সংুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস্ ডার্টমাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতাউর করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান আজিম উদ্দিন আহমেদ, মোবাইল অপারেটর কোম্পানি রবি‘র সিইও রিয়াজ রশিদ, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর আতিকুল ইসলাম এবং যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস এ এন্ড এম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ এস আলম বক্তৃতা করেন।

ডিজিটাল প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের অভাবনীয় অগ্রগতি অর্জনের কথা তুলে ধরে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বর ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখান।

আর ২০২১ সালে গর্ব করে বলতে পারি আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশে বাস করছি। এরই ধারাবাহিকতায় করোনাকালে আমরা অচল জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে পেরেছি।

শিক্ষা বিস্তার থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক জীবনসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে আমাদেরকে পিছিয়ে থাকতে হয়নি। উন্নত বিশ্বের অনেক দেশের জাতীয় প্রবৃদ্ধি এ সময় নেতিবাচক ছিল, সেখানে আমরা শতকরা ৫ দশমিক ২৪ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি।’

ডিজিটাল প্রযুক্তির বিকাশ ও শিক্ষায় ডিজিটালাইজেশনের পথ প্রদর্শক মাস্তাফা জব্বার করোনা উত্তর পৃথিবীতে আগের শিক্ষা পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই বলেও উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, আগামী দিনের শিক্ষা হবে বান্ডেড পদ্ধতি অর্থাৎ অনলাইনে এবং ক্লাসরুমে।

মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশনারি নেতৃত্বে ইতোমধ্যেই ডিজিটাল ডিভাইস উৎপাদন ও রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে বাংলাদেশ। আমরা নাইজেরিয়া ও নেপালে কম্পিউটার ও ল্যাপটপ রপ্তানি করছি।’

আমেরিকায় ফাইভ-জি মোবাইল রপ্তানি হচ্ছে উল্লেখ করে ডিজিটাল প্রযুক্তিতে বাংলা ভাষার প্রবর্তক মোস্তাফা জব্বার বলেন, বাংলাদেশ এখন সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও ভারতে ইন্টারনেট ব্যান্ডউডথ রপ্তানি করছে এবং ভুটানে ব্যান্ডউডথ রপ্তানির প্রক্রিয়া চলছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল বিপ্লবের বীজ বপন করে গেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৮ বছরে বঙ্গবন্ধুর বপন করা সেই বীজটিকে একটি মহিরূহে রূপান্তর করেছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ অতীতের তিনটি শিল্প বিপ্লব মিস করে প্রযুক্তিতে ৩২৪ বছরের পশ্চাদপদতা অতিক্রম করে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে নেতৃত্বের যোগ্যতা অর্জন করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ ছাড়াও এই অনুষ্ঠানে বক্তারা ডিজিটাল শিক্ষা বিস্তারের মাধ্যমে সঠিক মাত্রায় দক্ষ ডিজিটাল মানব সম্পদ তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। সূত্র: বাসস

বৈশাখী নিউজ/ জেপা