শ্রীলঙ্কায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে প্রথম প্রাণহানি

গভীর অর্থনৈতিক সঙ্কটের জেরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে শ্রীলঙ্কায় চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে প্রথমবারের মতো গুলি চালিয়েছে দেশটির পুলিশ। এতে অন্তত একজন নিহত ও আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার কলম্বো পুলিশের একজন মুখপাত্র বিক্ষোভে গুলি চালানোর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেছেন, পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ এবং বিক্ষোভ সহিংস আকার ধারণ করায় গুলি চালানো হয়েছে।

এদিকে ওই ঘটনার পর দেশটির মধ্যাঞ্চলে বুধবার কারফিউ জারি করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে সরকার তা খতিয়ে দেখার অঙ্গীকার করেছে। শ্রীলঙ্কার পুলিশ প্রধান চন্দনা বিক্রমারতে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘রামবুকানায় পুলিশের আচরণ নিয়ে আমি ইতোমধ্যে তদন্তের কাজ শুরু করেছি।’ তিনি এই এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ ঘোষণা করেন।

শ্রীলঙ্কায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে একজন বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মহল। বিক্ষোভকারী হত্যার ঘটনায় কলম্বো ভিত্তিক যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও কানাডার দূত গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা সকলপক্ষকে শান্ত থাকারও আহ্বান জানিয়েছেন।

রাজধানী কলম্বো থেকে ৯৫ কিলোমিটার পূর্বে রামবুকানায় বিক্ষোভকারীরা একটি ডিজেল ট্যাংকারে আগুন ধরিয়ে দিলে পুলিশ গুলি চালায়। এতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। চলতি মাসে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভকালে এটিই প্রথম প্রাণহানির ঘটনা।

তেলের তীব্র ঘাটতি এবং উচ্চ মূল্যের প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাজধানী কলম্বো থেকে ৯৫ কিলোমিটার দূরের রামবুক্কানা শহরে সড়ক অবরোধ করে লোকজন বিক্ষোভ করেছেন। জ্বালানির তীব্র ঘাটতির কারণে শ্রীলঙ্কাজুড়ে মঙ্গলবার বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। লাখ লাখ মানুষ এই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। এ সময় তারা রাজধানীমুখী সড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন।

১৯৪৮ সালে স্বাধীনতা পাওয়ার পর এবারই প্রথম সবচেয়ে বিপর্যয়কর অর্থনৈতিক সঙ্কটের মুখোমুখি হয়েছে শ্রীলঙ্কা। দেশটিতে নিত্য-প্রয়োজনীয় খাদ্য ও পণ্যসামগ্রীর তীব্র সঙ্কট চলছে। আমদানিতে বিপর্যয় দেখা দেওয়ায় দ্রব্যমূল্য আকাশ ছুয়েছে। উৎপাদনে ভাটা পড়ায় দিনের বেশিরভাগ সময়ই বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার এই দ্বীপ রাষ্ট্রের বাসিন্দাদের।

মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে থাকায় দেশটিতে হু হু করে বাড়ছে খাদ্য-ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম। বৈদেশিক মুদ্রার মজুত কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি আমদানি করতে পারছে না দেশটি। ফলে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে শ্রীলঙ্কার গণপরিবহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা।

বিদ্যুৎ-খাদ্য-ওষুধ-জ্বালানি সংকটে অতিষ্ঠ শ্রীলঙ্কার জনগণ গত কিছু দিন ধরে সড়কে অবস্থান নিয়েছেন বং সরকারের পদত্যাগের দাবিতে কলম্বোসহ দেশের সব বড় শহরে আন্দোলন শুরু করেছেন তারা। জনগণের ক্ষোভের মুখে ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভার অধিকাংশ সদস্য পদত্যাগ করেছেন।

মঙ্গলবার দেশটির ক্ষুব্ধ জনগণ রামবুক্কানার যে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে, সেটি মধ্যাঞ্চলীয় শহর ক্যান্ডিকে রাজধানী কলম্বোর সাথে সংযুক্ত করেছে। শ্রীলঙ্কাজুড়ে জ্বালানি স্টেশনগুলোতে পেট্রোল এবং ডিজেল ফুরিয়ে যাওয়ায় দেশটিতে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

দেশটির প্রধান খুচরা তেল বিক্রেতা কোম্পানি সিলন পেট্রোলিয়াম করপোরেশ তাদের তেলের দাম ৬৪ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি এবং রেশনিং ব্যবস্থা প্রত্যাহার করেছে। পেট্রোলের খুচরা বিক্রেতা লঙ্কা আইওসি দেশটির স্থানীয় বাজারের এক তৃতীয়াংশ তেলের সরবরাহকারী। তারাও গতকাল তেলের মূল্য ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে।

বৈশাখী নিউজ/ এপি